
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা পাঁচ দশকের বেশি সময় ‘ভোট না দেওয়ার’ প্রথা ভাঙতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সভা করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ এলাকায় ওই সভায় স্থানীয় আলেম, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে একই উদ্দেশ্যে ইউনিয়নটির চরপক্ষিয়া গ্রামে প্রথম দফা মতবিনিময় সভা করেন জেলা প্রশাসক। এবারের সভায় স্থানীয় ইমাম ও সাধারণ মানুষ জেলা প্রশাসনকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে পর্দা মেনে নারীদের ভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়। ৫৬–৫৭ বছর আগে এক পীরের সাময়িক নির্দেশনাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে নারীদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে, যা বর্তমান সময়ে গ্রহণযোগ্য নয়।
আলেমদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, সমাজে ইমামদের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। তাঁরা সঠিকভাবে মানুষকে বোঝাতে পারলে এবার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে ৭০–৮০ শতাংশ নারী ভোটার ভোটকেন্দ্রে আসবেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নারী ভোটারদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও বিশেষ ব্যবস্থার নিশ্চয়তাও দেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৬৯ সালে স্থানীয় একজন পীরের নির্দেশনার পর থেকে রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা কোনো নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে যান না। ইউনিয়নটির মোট ভোটার ২১ হাজার ৬৯৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার প্রায় ১০ হাজার ২৯৯ জন। তাঁদের অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
মতবিনিময় সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন চাঁদপুরের উপপরিচালক সেলিম সরকার, ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেতু কুমার বড়ুয়াসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।