
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় শিশুকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত কিশোরের বাবা ও চাচাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আজ শনিবার দুপুরে শিশুকে হত্যার ঘটনায় সদর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত কিশোরের বাবা ও চাচাকে হত্যার ঘটনায় থানায় আজ বেলা দুইটা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। শিশুকে হত্যার অভিযোগে কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ দুপুরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম প্রথম আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম প্রথম আলোকে বলেন, আজ দুপুরে নিহত শিশুটির মা আরিফা আক্তার বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন সদর উপজেলার বনপারিল গ্রামের অভিযুক্ত কিশোর, কিশোরের বাবা নিহত পান্নু মিয়া (৪৫), চাচা নিহত ফজলু মিয়া (৩০) ও ভাই আহত নাজমুল হোসেন (২৪) এবং একই গ্রামের মো. রনি (২২)।
পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার পর থেকে সদর উপজেলার বনপারিল গ্রামের সৌদিপ্রবাসী দুদল মিয়ার মেয়ে আতিকা আক্তার (৭) নিখোঁজ হয়। এরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শিশুটির খোঁজ করতে থাকেন স্বজনেরা। এর মধ্যে আতিকাকে একই গ্রামের এক কিশোরের (১৫) সঙ্গে দেখেছে বলে স্বজনদের জানায় এক শিশু। এরপর কিশোরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে আতিকার স্বজনেরা। পরে রাত ১০টার দিকে ওই কিশোরের দেওয়া তথ্যমতে, বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেতে গলায় কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় আতিকার লাশ দেখতে পান স্বজন ও স্থানীয় লোকজন।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর লাশ বাড়িতে নিয়ে যান স্বজন ও স্থানীয় লোকজন। এর মধ্যে অভিযুক্ত কিশোর পালিয়ে যায়। তবে কিশোরের বড় ভাই নাজমুলকে আটক করে নিহত শিশুর স্বজন ও স্থানীয় লোকজন। এরপর কিশোরের বাবা পান্নু, চাচা ফজলুকে নিহত শিশুর বাড়িতে ডেকে আনা হয়। রাত ১১টার দিকে নিহত শিশুর বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের পিটুনিতে পান্নু ও ফজলু মারা যান। পরে তাঁদের লাশ বাড়ির পাশে একটি পুকুরের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন নাজমুল। খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত নাজমুলকে উদ্ধার করে জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। পাশাপাশি নিহত শিশু আতিকা এবং পান্নু ও ফজলুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নাজমুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার নিহত শিশু এবং অভিযুক্ত কিশোরের বাবা ও চাচার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। সন্ধ্যায় শিশু আতিকার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে এশার নামাজের পর জানাজা শেষে বনপারিল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে শিশুটির লাশ দাফন করা হয়েছে। এদিকে আজ দুপুরে স্বজনদের কাছে নিহত পান্নু ও ফজলুর লাশ হস্তান্তর করা হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, দাফনের জন্য গ্রামের কবরস্থানে শিশুটির কবরের পাশে পান্নু ও ফজলুর কবর খোঁড়া হচ্ছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, ঘটনাস্থল বনপারিল এলাকার পাশেই ঢাকার নবাবগঞ্জ এলাকা। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে নবাবগঞ্জ এলাকা থেকে অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে আছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কিশোর আদালতে তোলা হবে। অন্য আসামি রনিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজনের পিটুনিতে দুই ভাইকে হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত স্বজনদের কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। লাশ দাফন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় স্বজনেরা মামলা করতে আসেননি। মামলা করলে তা নথিভুক্ত করা হবে।