লেবু বাগানে বন্যপ্রাণী ঠেকাতে পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ গেল শ্রমিকের। সোমবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের রাধানগর এলাকায়
লেবু বাগানে বন্যপ্রাণী ঠেকাতে পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ গেল শ্রমিকের। সোমবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের রাধানগর এলাকায়

লেবুবাগানে ঘাস কাটার সময় বন্য প্রাণী ঠেকানোর বৈদ্যুতিক ফাঁদে শ্রমিক নিহত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বন্য প্রাণী ঠেকাতে লেবুবাগানের চারপাশে স্থাপন করা বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সুনীল সাঁওতাল (৩৫) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার ভোরে উপজেলার রাধানগর কমিউনিটি ক্লিনিকের পেছনে জরিফ মিয়ার মালিকানাধীন একটি লেবুবাগানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সুনীল সাঁওতাল রাধানগর বস্তি এলাকার মৃত রবিয়া সাঁওতালের ছেলে। নিহত সুনীল সাঁওতালের সাত ও পাঁচ বছর বয়সী দুটি মেয়ে রয়েছে। তিনিই সেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি ছিলেন।

স্থানীয় ও নিহত ব্যক্তির পরিবার সূত্রে জানা যায়, আজ ভোরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে বাড়ির পাশের লেবুবাগানে যান সুনীল। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সুনীল বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে বাগানের ভেতরে বিদ্যুতের তারে জড়ানো অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানা–পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, পাহাড়ি শূকর ও অন্যান্য বন্য প্রাণীর আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় বাগানের চারপাশে জিআই তারে বিদ্যুৎ–সংযোগ দিয়ে আর্থিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনো সতর্কতা বা পূর্বঘোষণা দেওয়া হয়নি। এভাবে বিদ্যুতায়িত ফাঁদ বসানোর কারণেই একজন নিরীহ মানুষের মৃত্যু হলো।

জমি ইজারা নিয়ে লেবুবাগানটি করেছেন স্থানীয় আলী আর্জুন নামের এক ব্যক্তি। ঘটনার পর থেকে তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম (মুন্না) প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে রাধানগর এলাকার একটি লেবুবাগান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভোরে ঘাস কাটতে গিয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তবে কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং নিহত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।