নোয়াখালীর হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের প্রকল্প বাজারে এনসিপি ও বিএনপির কর্মীদের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ চলছে
নোয়াখালীর হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের প্রকল্প বাজারে এনসিপি ও বিএনপির কর্মীদের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ চলছে

হাতিয়ায় বিএনপি–এনসিপির কর্মীদের সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ আহত ২০

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। আজ বুধবার দুপুর ১২টায় উপজেলার চানন্দি ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ ঘটনার পর নিজের ওপর হামলার অভিযোগ এনে প্রকল্প বাজার সড়কে বসে বিক্ষোভ করেন নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ (২৬)। হান্নান মাসউদের সমর্থকেরা চানন্দি ইউনিয়নে বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর করেছেন বলে দলটির নেতা–কর্মীরা পাল্টা অভিযোগ করেছেন। বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত দুই পক্ষ সড়কে অবস্থান করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে পুলিশ।

উভয় পক্ষের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ তাঁর দলীয় লোকজন নিয়ে প্রকল্প বাজার এলাকায় গেলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা–কর্মীরা একত্র হয়ে তাঁর গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে হান্নান মাসউদ ও তাঁর সঙ্গের লোকজন কিছুটা পিছু হটে যান। পরে আবার তাঁরা একত্র হয়ে ধাওয়া করলে হামলাকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ ঘটনায় হাতিয়া থানার উপপরিদর্শক(এস আই) শহীদুল আলমসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় এনসিপির কর্মীদের ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপির একটি কার্যালয়ের আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়।

হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেন, নির্বাচনী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দেখতে ওই এলাকায় গেলে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা বেলাল মাঝির নেতৃত্বে তাঁর অনুসারী ও বিএনপির কর্মীরা এক হয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। হামলার প্রতিবাদ, বেলাল মাঝিসহ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে হান্নান মাসউদ এ সময় সড়কে বসে পড়েন। তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তারও অভিযোগ করেছেন। পরে পুলিশের অনুরোধে হান্নান মাসউদ সড়ক ছাড়েন।

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে মুঠোফোনে ধারণ করা একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, হান্নান মাসউদ সড়কের ওপর বসে আছেন। তাঁর আশপাশে দলের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁকে ঘিরে ধরে স্লোগান দিচ্ছেন। একইভাবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রকল্প বাজারের সড়কে অবস্থান করছেন। আর দুই পক্ষের মাঝে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যেই এক পক্ষ আরেক পক্ষকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছে।

আবদুল হান্নান মাসউদ প্রথম আলোকে বলেন, হামলাকারী ব্যক্তিদের ইটের আঘাতে তাঁর চশমা ভেঙে গেছে, তিনি আঘাত পেয়েছেন। এত কিছুর পরও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

চানন্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইকবাল মাহবুব প্রথম আলোকে বলেন, সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে লাঠিসোঁটা হাতে প্রকল্প বাজারে বেলাল মাঝি নামে এক ব্যক্তিকে খোঁজাখুঁজি করেন। এ সময় মো. হেলাল নামের বিএনপির এক কর্মীকে মারধর করেন তাঁর দলের কর্মীরা। এতে বাজারের মানুষ ও ব্যবসায়ীরা তাঁদের ধাওয়া করেন। বিএনপির পক্ষ থেকে হান্নান মাসউদের ওপর হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। উল্টো তাঁরা বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর করেছেন।

ঘটনাস্থলে থাকা হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বেলা তিনটায় প্রথম আলোকে বলেন, তিনি দুই পক্ষের মাঝখানে আছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। শান্ত হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলবেন। অন্যদিকে একই বিষয়ে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, প্রকল্প বাজারে অবস্থানরত সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তা ছাড়া একজন সহকারী পুলিশ সুপারকেও ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।