গণভোট বিষয়ে মতবিনিময়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। আজ বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে
গণভোট বিষয়ে মতবিনিময়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। আজ বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে

পুলিশ এখন ডান্ডা মারে না, গুলিও করে না—আমরা করতে দিই না: নৌপরিবহন উপদেষ্টা

পুলিশ এখন ডান্ডা মারে না, গুলিও করে না বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। আজ বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়নে গণভোট বিষয়ে এক মতবিনিময় সভার পর গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

দেশ কেমন চলছে—এমন প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ভালো-মন্দ আপনার ব্যাপার। আপনি যদি মনে করেন ভালো চলছে, তো ভালো চলছে। আপনারা জানেন, দেশে যে মাফিয়ারা ছিল, তারা এখন নেই। বাজার নিয়ন্ত্রণও কমে গেছে। পুলিশ এখন ডান্ডা মারে না, গুলিও করে না—আমরা করতে দিই না।’

এর আগে ওই মতবিনিময় সভায় নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এর আগে যা দেখেছি, সে রকমের যেন পুনরাবৃত্তি না হয়—যেখানে সরকারের হুকুমে দেশের নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। মারার পর আবার ভ্যানগাড়িতে চড়িয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক ইতিহাস পড়েছি, প্রমাণ্যচিত্র দেখেছি—কিন্তু এ রকম দৃশ্য দেখা যায়নি। এসব কর্মকাণ্ডে সরকারের পক্ষ থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এটা করার কারণ ক্ষমতা পাকাপোক্ত করে সারা জীবন টিকে থাকা।’

সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, ‘সে সময় একক ক্ষমতা দেখেছি। মন্ত্রিপরিষদ থাকার পরও মন্ত্রীদের কোনো কাজ ছিল না। যা করতেন, তা প্রধানমন্ত্রীর নামে। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এ দেশের “বিধাতা”। চরম স্বৈরাচারিতা বলতে যা বোঝায়, তার একধাপ ওপরে ছিলেন তাঁরা।

তরুণ প্রজন্মের বুকের রক্ত দিয়ে এই অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠার প্রধান কারণ সে অবস্থার পরিবর্তন। সেই পরিবর্তন আনতে পারে জুলাই সনদ। দেশের পরিবর্তনের জন্য সবার সহযোগিতা দরকার। আপনারা ভোটের দিন প্রার্থীর ভোটের সঙ্গে গণভোটে অংশ নেবেন। গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দেবেন।’

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার কারণ উল্লেখ করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিলে ক্ষমতা কুক্ষিগত হবে না, ভাগাভাগি হবে। নির্বাচনপদ্ধতিতে নিরপেক্ষ লোকজন বসবে। নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য যা করার, তা–ই করা হবে।

সরকারের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ‘সংবিধানের কিছু পরিবর্তন আমরা করতে পারতাম না। যদি পারতাম, তাহলে আপনাদের সামনে এসে কথা বলতাম না। নিজেরাই সংবিধান পরিবর্তন করে ফেলতাম। যেহেতু সংবিধান পরিবর্তন করতে হলে পার্লামেন্টে যেতে হবে, সেই জায়গায় আপনারা যদি “হ্যাঁ” বলেন, তবে আপনাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির কোনো ক্ষমতা থাকবে না সেখানে গিয়ে নেগেটিভ কথা বলার।’

মতবিনিময় শেষে উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণ নিয়ে সংবাদকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ক্যাবিনেটে আমাদের সবার সম্পদের বিবরণ জমা দেওয়া আছে। ক্যাবিনেটের ওয়েবসাইটে গেলে দেখতে পাবেন।’

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) দেলোয়ারা বেগম, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান, ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাজমুল হকসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।