রংপুরে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। আজ শনিবার বিকেলে রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনের সামনে
রংপুরে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। আজ শনিবার বিকেলে রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনের সামনে

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে: আইজিপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।

আজ শনিবার বিকেলে নির্বাচন উপলক্ষে রংপুর রেঞ্জ ও রংপুর মহানগর পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।

বাহারুল আলম বলেন, ‘১ লাখ ৫০ হাজার সদস্যকে আমরা প্রশিক্ষণ দেওয়ার টার্গেট নিয়েছি। গতকাল পর্যন্ত ১ লাখ ৩৩ হাজার সদস্যকে আমরা প্রশিক্ষণ দিতে পেরেছি। আমি আশা করছি, আগামী ২০ তারিখের মধ্যে বাকি সবাইকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’

বিগত ১৫ বছর নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকায় মানুষের আস্থা ছিল না উল্লেখ করে বাহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের নানামুখী তৎপরতা আছে। আমরা পুলিশকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। নির্বাচনে কীভাবে কাজ করতে হবে, এটার স্বচ্ছ ধারণা ছিল না। সেটা আমরা চেষ্টা করেছি, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে।’

বাহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের মূলত উদ্দেশ্য হচ্ছে, যাঁরা নির্বাচনকেন্দ্রে মোতায়েন হবেন, তাঁদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া। তাঁরা কতটুকু সুষ্ঠুভাবে ও বলিষ্ঠতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন, সেটা মূল্যায়ন করা। রংপুর বিভাগের যত পুলিশ কর্মকর্তা আছেন, সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন করার যে উদ্যোগ নির্বাচন কমিশন নিয়েছে, তাতে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা ও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তাঁরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা পুলিশের দায়িত্ব উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ শুধু এখানে একা না, পুলিশের সঙ্গে নির্বাচনে ছয় লাখ আনসার সদস্য থাকবেন। এখন নির্বাচনের আগে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ প্রতিটি বাহিনী আমাদের সঙ্গে আছে। তাঁরা এখন আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।’

আইজিপি বাহারুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার মন্ত্রণালয়কে বলেছেন, প্রতিটি কেন্দ্রে যেন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। আমি যেটা শুনতে পাচ্ছি, সেটা তাঁরা চেষ্টা করছেন, হয়তো হয়ে যাবে। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ৮ হাজার ও মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ ১৬ হাজার কেন্দ্রে পুলিশের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং জেলা পর্যায় থেকে এগুলো কেনা হচ্ছে ও প্রশিক্ষণ চলছে।’

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশের উদ্যোগ নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে আইজিপি বলেন, ‘আমরা শত শত উদ্ধার করতে পারছি না। একটা-দুইটা করে হচ্ছে। এটা যে আমরা দ্রুত করে ফেলতে পারব, সেটা হয়তো সম্ভব হবে না। ১৩ ডিসেম্বের থেকে আজ পর্যন্ত ২৫১টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।’

বিগত ১৫ বছরের ‘দলীয় পুলিশ’ পরিচয় থেকে পুলিশকে স্বমহিমায় দাঁড় করানো বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘আমাদের ওপরে যে দায়ভার এসেছে, এগুলো থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশকে আবার স্বমহিমায় দাঁড় করাতে, তাঁদের মনোবল বৃদ্ধি করে কাজে ফিরিয়ে আনতে এক বছর ধরে আমরা চেষ্টা করেছি। আমরা বলব না, শতভাগ সফল হয়েছি, তবে আমাদের চেষ্টার কমতি নেই।’

এ সময় রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী, উপপুলিশ কমিশনার তোফায়েল আহমদ, রংপুরের পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।