
পিরোজপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেছেন মো. মাসুম হাওলাদার (৩৩) নামের এক যুবক। আজ মঙ্গলবার পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি করেন তিনি।
বিচারক মোহা. মহিদুজ্জামান মামলা আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের আদেশ দিয়েছেন। বাদী মাসুম হাওলাদারের আইনজীবী এম সরোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) নূরুল আমীন হাওলাদার, কনস্টেবল মো. রেজওয়ান হাওলাদার, মো. আবদুর রাজ্জাক, মো. মামুন মিয়া ও মো. শাহ জালাল মিয়া। বাদী মো. মাসুম হাওলাদারের বাড়ি ইন্দুরকানি উপজেলার পত্তাশী গ্রামে।
পিরোজপুর জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তাজমিলুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মামলার অভিযোগ মিথ্যা। বাদী মামুন হাওলাদারকে গাঁজা, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ঘটনার পর তিনি আদালতে নির্যাতনের বিচার চাইতে পারতেন। এত দিন পর মামলা করায় আমরা বিস্মিত।’
মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট রাত আনুমানিক সোয়া নয়টায় আসামিরা সাদাপোশাকে মাসুম হাওলাদারের ঘরে ঢোকেন। এরপর তাঁরা স্ত্রী ও শিশুসন্তানের সামনে তাঁকে কিলঘুষি ও চড়থাপ্পড় মারতে থাকেন। এ সময় তাঁরা বলতে থাকেন, কী আছে বের করে দে। মাসুম হাওলাদার তাঁর কাছে কিছু নেই বললে ডিবি পুলিশের সদস্যরা তাঁকে আবার মারধর শুরু করেন।
একপর্যায়ে মাসুম হাওলাদার জ্ঞান হারান। জ্ঞান ফিরলে তিনি আঘাতের কারণে কানে শুনতে পাচ্ছিলেন না। এ কথা বলার পর ডিবি পুলিশের সদস্যরা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে ঘরের বাইরে নিয়ে যান। এরপর মাটির ওপর রাখা একটি পুঁটলি হাতে নিতে বলেন এবং তাঁকে ওই অবস্থায় সঙ্গে করে নিয়ে যান।
গত বছরের ১৮ অক্টোবর মাসুম হাওলাদার হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক কান গলা বিভাগে চিকিৎসা নেন। সুস্থ হওয়ার পর আজ আদালতে মামলাটি করেন। পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শুনানি শেষে মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের আদেশ দেন।
বাদী মাসুম হাওলাদারের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সরোয়ার হোসেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পিরোজপুর বারের আইনজীবী জসিম উদ্দিন আহমেদ।
এম সরোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্যাতন, হেফাজত ও মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩-এ পিরোজপুরে এটা প্রথম মামলা। শুনানির সময়ে বিচারক জানতে চেয়েছিলেন, ঘটনার আট মাস পর কেন মামলা করা হলো। তখন আমি বলেছি, বাদী কারাগারে ছিলেন। কারাগার থেকে বের হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তা ছাড়া পিরোজপুরের বারের কোনো আইনজীবী মামলাটি পরিচালনায় আগ্রহ দেখাননি। যে কারণে হাইকোর্ট বন্ধ হওয়ার পর আমি পিরোজপুরে এসে মামলার শুনানি করায় দেরি হয়েছে। শুনানি শেষে বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া জেলা সিভিল সার্জনকে বাদীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলেছেন।’