
হরিণের মাংসের নাম করে শূকরের মাংস বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বন বিভাগ। গত রোববার রাত ১১টার দিকে সুন্দরবনসংলগ্ন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরলাঠিমারা এলাকা থেকে থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে সাজা দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জাকির হোসেনের (৩৮) বাড়ি চরলাঠিমারা এলাকায়। তাঁর কাছ থেকে একটি জীবিত শূকর উদ্ধার করা হয়েছে।
পাথরঘাটা রেঞ্জের চরলাঠিমারা ফরেস্ট ক্যাম্পের বিট কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘হরিণশিকারিরা বনের মধ্যে ফাঁদ পাতে। তাদের ফাঁদে হরিণ, শূকর যা ধরা পড়ে, তা-ই তারা হরিণের মাংসের নামে বিক্রি করে থাকে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা শিকারি জাকিরকে আটক করি। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া শূকরটি দুই-এক দিন ধরে আটকা ছিল। সেটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চরলাঠিমারা বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।’
বন বিভাগ জানায়, এ ঘটনায় গতকাল সোমবার ভ্রাম্যমাণ আদালত জাকির হোসেনকে ২ মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন। পাথরঘাটা আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. পনির শেখ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতে জাকির হোসেন স্বীকার করেছেন, তিনি হরিণশিকারি এবং হরিণের মাংসের নামে শূকরের মাংস বিক্রির চেষ্টা করছিলেন।
বন কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, হরিণের মাংস বলে শূকর এমনকি কুকুরের মাংস দিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। অনেক সময় নষ্ট ও পচা মাংস এবং হরিণের সঙ্গে শূকর বা কুকুরের মাংসও মিলিয়ে দেয় চোরা শিকারিরা।
বন বিভাগের বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা কার্যালয়ের মৎস্যবিশেষজ্ঞ ও স্মার্ট ডেটা কো-অর্ডিনেটর মো. মফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনের হরিণ বাঘের খাবার। হরিণ বাঁচলে বাঘ বাঁচবে। আর বাঘ বাঁচলে সুন্দরবন বাঁচবে। হরিণ শিকার রোধ ও সুন্দরবন রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আরও সচেতন হতে হবে। মানুষ সচেতন না হলে কিছুই রক্ষা করা যাবে না।