
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিএনপি নেতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি ও ককটেল ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে এক চায়ের দোকানদার ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন। তাঁকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত নয়টার দিকে ভেড়ামারা শহরের দক্ষিণ রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রাত নয়টার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে ৬ জন ব্যক্তি ভেড়ামারা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ওরফে ডাবলুর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে যান। এ সময় তাঁর উদ্দেশে গালিগালাজ করতে থাকেন ওই ব্যক্তিরা। উপজেলা যুবদদলের নেতা বালু ব্যবসায়ী উজ্জ্বলের নাম ধরে ডাকতে থাকেন তাঁরা। কয়েক মিনিটের মধ্যে শটগানের কয়েকটি গুলি ছোড়েন তাঁরা। এরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। এ সময় সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলিতে পার্শ্ববর্তী চায়ের দোকানের মালিক শুকুর আলী আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
গুলিবিদ্ধ শুকুর আলী বলেন, ‘হট্টগোলের মধ্যে হঠাৎ একটা শক্ত কিছু থুতনিতে এসে লাগে। এরপর রক্ত বের হতে থাকে। গুলির শব্দ শুনতে পাই। ককটেলও ছোড়ে তারা।’
স্থানীয় কয়েকজন বালু ব্যবসায়ী জানান, গতকাল দিনের বেলায় ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে বালুঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাহাদুরপুরে বিএনপির দুই পক্ষের নেতা–কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দুপুরের পর বাহিরচর ইউনিয়নের টিকটিকিপাড়ার বালুঘাটে বিএনপির একটি পক্ষ অন্য পক্ষের কার্যালয় ভাঙচুর করে। এ সময় একটি বালু খননের যন্ত্র ও বেশ কয়টি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার সূত্র থেকেই রাতের ঘটনা ঘটেছে।
ভেড়ামারা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় তিনি তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেই ছিলেন। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হলেও তিনি এটি তাঁর দলীয় কার্যালয় হিসেবেও ব্যবহার করেন। রাতে হঠাৎ তাঁর অফিস লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা বাইরে থেকে বেশ কয়েকটি গুলি ছোড়ে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কারা ছুড়েছে, তাদের কাউকে চিনি না। পুলিশ এসে সব তথ্য ও খোঁজখবর নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দেওয়া হবে।’
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) দেলোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে শটগানের গুলির চারটি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ব্যক্তি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বালুঘাটের বিষয় নিয়ে দিনের বেলার কিছু ঘটনার সঙ্গে রাতের ঘটনার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দিনের বেলার ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। রাতের ঘটনাতেও থানায় মামলা নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের টহল রাখা হয়েছে।