বগুড়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শনিবার সকালে
বগুড়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শনিবার সকালে

ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনে ১০ মার্চ বগুড়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করতে আগামী ১০ মার্চ বগুড়া সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হিসেবে নিজ জেলা বগুড়ায় হবে তাঁর প্রথম সরকারি সফর। ওই দিন সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি। এর মাধ্যমে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।

আজ শনিবার বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন।

মীর শাহে আলম বলেন, জনগণকে দেওয়া বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, পাইলট প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম ঈদের আগেই ১৪টি উপজেলায় শুরু হচ্ছে। আগামী ১০ মার্চ বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত—এই তিন শ্রেণির লোকজন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই কার্ড পাবেন।

এর আগে গতকাল শুক্রবার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে হজরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিছু প্রতারক ও দালাল শ্রেণির লোক ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন বলে প্রধানমন্ত্রীসহ তাঁদের কাছে অভিযোগ এসেছে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বার্তা হলো, দয়া করে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের জন্য কাউকে কোনো টাকাপয়সা দেবেন না। এটা সবাই পাবেন এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তালিকা হবে। কোনো দলীয়করণ হবে না। দুই–তিন বছরের মধ্যে চার কোটি পরিবারই ফ্যামিলি কার্ড পাবে।’

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের জন্য সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে উপকারভোগীদের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চলছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে আলাদা দুটি জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়েও আলাদা কমিটি করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ডবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, পরীক্ষামূলকভাবে আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে এই কার্ড দেওয়া হবে। এর আওতায় প্রতিটি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা পাবে।

দেশের যে ১৪টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে সেগুলো হলো ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বনানী এলাকার আওতাধীন কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক বস্তি; মিরপুর শাহ আলী এলাকার আলী মিয়ার টেক বস্তি ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাগানবাড়ি বস্তি; বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার একটি ওয়ার্ড, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা উপজেলার একটি ওয়ার্ড, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্জারামপুর উপজেলার একটি ওয়ার্ড, বান্দরবানের লামা উপজেলার একটি ওয়ার্ড, খুলনার খালিশপুর উপজেলার একটি ওয়ার্ড, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার একটি ওয়ার্ড, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার একটি ওয়ার্ড, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার একটি ওয়ার্ড, নাটোরের লালপুর উপজেলার একটি ওয়ার্ড, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার একটি ওয়ার্ড ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার একটি ওয়ার্ড।