কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা করা ১২ জন এভাবে রোদের মধ্যে শূন্যরেখার কাছে পাটখেতের আইলে বসে আছেন। শুক্রবার দুপুরে
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা করা ১২ জন এভাবে রোদের মধ্যে শূন্যরেখার কাছে পাটখেতের আইলে বসে আছেন। শুক্রবার দুপুরে

কুষ্টিয়ায় পুশ ইনের চেষ্টা

শূন্যরেখার কাছে খেতের আইলে কাঁদছেন নারীরা, শিশুরা ক্ষুধার্ত

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত পিলার ১৪৮/৩ এস। এই পিলার থেকে ভারতের ৫০ গজের মধ্যে একটি পাটখেতের আইলে বসে আছেন নারী-শিশুসহ ১২ জন। প্রচণ্ড রোদে পুড়ে তাঁরা ক্লান্ত। শিশুরা ক্ষুধার্ত। নারীরা কাঁদছেন। ১০ মাসের শিশু থেকে চার বছর বয়সী শিশু আছে কয়েকটি। এক নারী অন্তঃসত্ত্বা।

কথাগুলো বলছিলেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা নীল চাঁদ। তিনি কৌশলে বিস্কুট, কলা, পাউরুটি, দুধসহ কিছু শুকনা খাবার দিয়ে এসেছেন তাঁদের। আজ শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে সীমান্ত পিলারের কাছে দাঁড়িয়ে তাঁর সঙ্গে কথা হয়।

ছলছল চোখে নীল চাঁদ প্রথম আলোকে বলেন, চারজন পুরুষ চুপচাপ বসে আছেন। চারজন নারীর মধ্যে তিনজন কাঁদছিলেন। একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। রোদে তাঁরা ক্লান্ত। তিনি বলেন, খাবার দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা খেতে শুরু করেন। শিশু দুটি দুধ খেতে থাকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রাগপুর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে বিজিবির সদস্যরা সীমান্তে কড়া নজরদারি করছেন। মাইকে প্রচার করা হচ্ছে, কোনোভাবেই অবৈধ পুশ ইন হতে দেওয়া যাবে না।

আজ ভোরে দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলার এলাকা দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে তাঁদের প্রবেশ ঠেকিয়ে দেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য ও সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।

কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি প্রথম আলোকে বলেন, ১২ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে দুপুরের পর বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হবে।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পুশ ইনের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন পুরুষ, চারজন নারী ও চারটি শিশু আছে। তাঁরা অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয় লোকজন তা প্রতিহত করেন। বর্তমানে ওই ১২ জন ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের বাইরের অংশে শূন্যরেখার কাছাকাছি একটি মাঠে খেতের মধ্যে অবস্থান করছেন।

বিজিবি জানিয়েছে, তাঁরা যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারেন, সে জন্য সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ কাজে স্থানীয় সীমান্তবাসীরাও সহযোগিতা করছেন।

প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ভোরের দিকে ভারত থেকে ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় জনগণ ও বিজিবি যৌথভাবে তাঁদের প্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করেছে। সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও আছেন।

বিজিবির প্রাগপুর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আসাদুজ্জামান শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, পতাকা বৈঠকের জন্য দুই দফায় সময় দেয়। সর্বশেষ শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটায় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। বিএসএফ জানিয়েছে তারা আজকে আর বৈঠক করবে না। কাল কখন করবে, তা জানায়নি। তিনি আরও বলেন, পুশ ইনের চেষ্টা করা ১২ জন পাটখেতের ভেতর বসে আছেন। তাঁরা সেখানেই থাকবেন রাতে।