ছদ্মবেশী এক যুবক নাটোর আইনজীবী সমিতির চেম্বারে ঢুকে আইনজীবী আসাদুল ইসলামকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে তাঁকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সোমবার দুপুরে
ছদ্মবেশী এক যুবক নাটোর আইনজীবী সমিতির চেম্বারে ঢুকে আইনজীবী আসাদুল ইসলামকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে তাঁকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।  সোমবার দুপুরে

নাটোরে চেম্বারে ঢুকে আইনজীবীকে রড দিয়ে পেটালেন ছদ্মবেশী যুবক

নাটোরে এক আইনজীবীর চেম্বারে ঢুকে তাঁকে বেধড়ক পিটিয়েছেন ছদ্মবেশী এক যুবক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কাবিল হোসেন নামের ওই যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী আইনজীবীর নাম আসাদুল ইসলাম (৭২)। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জেলার সরকারি কৌঁসুলি ছিলেন। সম্প্রতি তিনি বাদী হয়ে একটি দেওয়ানি মামলা করায় অভিযুক্ত যুবক ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।

জেলা আইনজীবী সমিতি ও সদর থানা সূত্রে জানা যায়, আজ সোমবার বেলা পৌনে একটার দিকে আসাদুল ইসলাম নিজ চেম্বারে বসেছিলেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গেরুয়া রঙের সন্ন্যাসীর পোশাক পরিহিত এক যুবক রড দিয়ে আইনজীবী আসাদুল ইসলামের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। এ সময় তিনি হাত-পা দিয়ে আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তাঁর দুই হাত, ডান পা ভেঙে যায় এবং মাথা ফুলে ওঠে। আকস্মিক এ ঘটনায় আশপাশে থাকা শত শত বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও আইনজীবীর সহকারীরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ওই যুবককে আটক করে রাখা হয়। পুলিশ এসে পরে ওই যুবককে থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইনজীবী আসাদুল ইসলামকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে তাঁর দুই হাত ও পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। তাঁকে সিটি স্ক্যানের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, আহত আইনজীবীর হাত-পায়ে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। সিটি স্ক্যানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী পরিস্থিতি জানানো সম্ভব হবে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী মৃন্ময় কুমার ঘোষ বলেন, ‘আমার চেম্বারটা সিনিয়র আসাদুল ইসলামের চেম্বারের পাশেই। তাঁর চিৎকার শুনে আমি ছুটে গিয়ে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করি। কিন্তু হামলাকারী এত জোরে আঘাত করছিলেন যে তাঁর রডটি এক পর্যায়ে ভেঙে যায়। পরে অন্যান্য আইনজীবী ও মোহরাররা ছুটে এসে তাঁকে রক্ষা করি এবং হামলাকারীকে ধরে ফেলি।’

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি রুহুল আমীন তালুকদার বলেন, হামলাকারী সন্ন্যাসীর বেশে সাবেক জিপির চেম্বারে ঢুকে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে আকস্মিক মারপিট শুরু করেন। পরে তাঁকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনসুর রহমান জানান, হামলাকারী থানা হেফাজতে আছে। ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম চলমান।