রবিন হাওলাদার (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার পর স্বজনদের আহাজারি। বুধবার সকালে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে
রবিন হাওলাদার (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার পর স্বজনদের আহাজারি। বুধবার সকালে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে

পটুয়াখালীতে পানিনিষ্কাশনের পাইপ বসানো নিয়ে বিরোধে একজনকে পিটিয়ে হত্যা

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বাড়ির পানিনিষ্কাশনের জন্য পাইপ বসানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলে আহত হয়েছেন। আজ বুধবার সকাল সোয়া সাতটার দিকে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের উত্তর কালাইয়া গ্রামের লঞ্চঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম রবিন হাওলাদার (৫০)। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন রবিনের স্ত্রী ঠাকু রানী হাওলাদার (৪৫) এবং তাঁদের দুই ছেলে রনি হাওলাদার (২২) ও হৃদয় হাওলাদার (২৪)।

রবিন হাওলাদারের স্বজন ও স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টির মৌসুমে বাড়ির উঠানে পানি জমে যাওয়ায় সাতটি পরিবারের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছিল। এ সমস্যা সমাধানে প্লাস্টিকের পাইপ বসিয়ে পানিনিষ্কাশনের উদ্যোগ নেন রবিন। পাইপ কেনার খরচ সাতটি পরিবারের মধ্যে ভাগাভাগি করে দেওয়ার কথা ছিল। তবে এ বিষয়ে আপত্তি জানায় আনন্দ ব্যাপারীর পরিবার।

এ নিয়ে আজ সকালে রবিন হাওলাদারের সঙ্গে আনন্দ ব্যাপারীর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রতন ব্যাপারীর নেতৃত্বে ৮–১০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে রবিন হাওলাদারের ওপর হামলা চালান। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলে আহত হন।

স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে রবিন হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। আহত হয়ে তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন আছেন।

লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।