হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি। গতকাল রাতে তোলা
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি। গতকাল রাতে তোলা

চট্টগ্রাম-১৪

বিএনপি প্রার্থীর প্রধান সমন্বয়কারীর গাড়িতে হামলা, গুলি

চট্টগ্রামের-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারীর গাড়িতে হামলা ও গুলির অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে সাতকানিয়ার বাজালিয়া বাসস্টেশনের ভাঙা সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ওই সমন্বয়কারীর নাম এম এ হাসেম। তিনি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, হামলার ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে গাড়িতে আরও ৮ থেকে ৯ জন নেতা-কর্মী ছিলেন। গাড়িচালকের দক্ষতার কারণে তাঁরা রক্ষা পেয়েছেন।

বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সাতকানিয়া পুরানগড় ইউনিয়ন যুবদল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলসহ আরও দুটি কর্মসূচি ছিল। এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে এম এ হাসেম চন্দনাইশে ফিরছিলেন। রাত ১১টার দিকে তাঁদের বহনকৃত মাইক্রোবাসটি (নোয়াহ) ভাঙা সেতু এলাকায় পৌঁছালে অতর্কিতভাবে গাড়িতে হামলা হয়। এ সময় গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা।

জানতে চাইলে এম এ হাসেম বলেন, ‘স্থানীয় এলডিপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা এ হামলা করেছে। এ সময় গাড়ির ভাঙা কাচে আমি আঘাত পেয়েছি। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।’

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী কোনো প্রার্থী দেয়নি। এ আসনে মনোনয়ন নিয়েছেন জামায়াতের জোটসঙ্গী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ওমর ফারুক। তিনি দলটির সভাপতি কর্নেল অলি আহমেদের ছেলে। এম এ হাসেমের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন অধ্যাপক ওমর ফারুক। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তাঁদের কেউ জড়িত নয়। রাতে কোথায় এ ঘটনা কোথায় হয়েছে, কিছুই তাঁরা জানেন না।

জানতে চাইলে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাত ১১টার দিকে সাতকানিয়া বাজালিয়া এলাকায় এম এ হাসেমের গাড়িতে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’