
নিরাপদ ক্যাম্পাস, প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে চার দিন ধরে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পর এবার আমরণ অনশনে বসেছেন ‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’–এর শিক্ষার্থীরা।
আজ বুধবার বেলা একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে এই অনশন শুরু হয়। অনশনে অংশ নেন গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট, নারী অঙ্গন ও বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
অনশন কর্মসূচিতে যোগ দেন বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তরের (মাস্টার্স) শিক্ষার্থী ওমর সমুদ্র, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির, সাংগঠনিক সম্পাদক রাম্রা সাইন মারমা, রাজনৈতিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক আহমেদ মুগ্ধ, দপ্তর সম্পাদক নাইম শাহজাহান, নারী অঙ্গনের সংগঠক সুমাইয়া শিকদার, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সংগঠক ঈশা দে ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা।
অনশনরত বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) শিক্ষার্থী ওমর সমুদ্র বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে শিক্ষার্থীদের ওপর সবচেয়ে নিকৃষ্ট হামলার ১০ম দিন আজ। প্রশাসন রক্তপাত ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রক্টরিয়াল বডিও নিরাপত্তা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আগের গুপ্ত হামলাগুলোর বিচারও হয়নি, আমরা এখনো ঝুঁকিতে আছি। এই হামলার বিচার ও সংকট সমাধানে ৭ দফা দাবি নিয়ে কর্মসূচি করলেও প্রশাসন আন্তরিকতা দেখায়নি। উল্টো শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের হুমকি দিচ্ছে। এসব কারণে আমরা বাধ্য হয়ে অনশনে বসেছি। প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে নিক, নইলে লাশ হয়ে ঘরে ফিরব—এর দায়ভারও প্রশাসনকেই নিতে হবে।’
অনশনরত বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সংগঠক ঈশা দে বলেন, ‘বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা প্রশাসনকে জানান দিতে চেয়েছি। অনশনে যাওয়ার আগেও আমরা উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কিন্তু আগেও কোনো রূপরেখা পাইনি।’
‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দের’ সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ, আহত ব্যক্তিদের মানসম্মত চিকিৎসার নিশ্চয়তা, ক্যাম্পাসে নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা, হামলার ভিডিও প্রকাশকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রকৃত অপরাধীদের বিচার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমন্বয় কমিটি গঠন ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০০ শিক্ষার্থী আহত হন। সংঘর্ষের পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবি করে ‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’। এ নিয়ে ৪ সেপ্টেম্বর তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। সেদিন রাতে তাঁরা মশালমিছিল করেন। মশালমিছিল শেষে প্রক্টর অফিসে লাল রং ছিটিয়ে প্রক্টরিয়াল বডি পদত্যাগের আলটিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা।