মেয়েকে দংশন করেছে রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া)। আতঙ্কে সাপটিকে মেরে ফেলা বা পালিয়ে যাওয়ার বদলে সাপকে বুদ্ধি করে বোতলে বন্দী করে হাসপাতালে ছুটলেন বাবা। কোলে সাপে কাটা শিশু আর এক হাতে প্লাস্টিকের বোতলে জ্যান্ত রাসেলস ভাইপার—চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এমন দৃশ্য দেখে চমকে যান উপস্থিত সবাই।
আজ সোমবার দুপুরে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে দেখা যায় শিউরে ওঠার মতো এমন দৃশ্য।
রাসেলস ভাইপার দংশন করা চার বছরের মরিয়ম চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল নীলকমল ইউনিয়নের শেখকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মনির হোসেনের ছোট মেয়ে।
হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সকালে বাড়ির সামনে খেলছিল মরিয়ম। খেলা শেষে ঘরে ফেরার সময় হঠাৎ তার পায়ে দংশন করে একটি রাসেলস ভাইপার। এ সময় শিশুর চিৎকারে ছুটে আসেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
মেয়েকে সাপে কাটার পর বাবা মনির হোসেন আশপাশের ঝোপঝাড় খুঁজে সাপটিকে আটক করে একটি বোতলে বন্দী করেন। পরে মেয়েকে কোলে করে বোতলবন্দী সাপ নিয়ে প্রথমে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
হাসপাতালে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা মরিয়মের চিকিৎসা শুরু করেন এবং অ্যান্টিভেনমসহ প্রাথমিক চিকিৎসার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আসিবুল হাসিব জানান, সাপে কাটা রোগীকে সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিয়ে আসায় দ্রুত অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। তবে রাসেলস ভাইপারের বিষ শরীরে জটিলতা তৈরি করতে পারে, তাই তাকে ২৪ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঝাড়ফুঁকের মতো কুসংস্কারে সময় নষ্ট না করে তাৎক্ষণিক মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ছুঁটে আসেন বাবা মনির হোসেন। চিকিৎসক আসিবুল হাসিব বলেন, বাবা যেভাবে সাপ চিনে বা সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন, তাতে বিষের তীব্রতা ও সঠিক প্রতিষেধক নির্ধারণ করা সহজ হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে চাঁদপুরের মেঘনার চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী এলাকায় রাসেলস ভাইপারসহ নানা ধরনের সাপের উপদ্রব বেড়েছে। তবে আগের মতো ওঝা বা সাপুড়ের কাছে না গিয়ে গ্রামের মানুষ এখন সচেতন হয়ে সোজা হাসপাতালে ছুটছেন।