সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সিলেট সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সিলেট সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে

হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা সাতদিনের মধ্যে শেষ করা হবে: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

হাওর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাসে ২০ কেজি করে খাবার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, গত পরশু থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর জন্য তালিকাটা আগামী সাত দিনের মধ্যে সমাপ্ত করা হবে। প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিরা তালিকা তৈরি করতে সহায়তা করছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সিলেট সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে তিনি সিলেট বিভাগের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাওর এলাকার উন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

হাওর অঞ্চলে অকালবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পর সরকার তিন মাসের মানবিক সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে উল্লেখ করে রাশেদ আল মাহমুদ আরও বলেন, হাওরে দুর্যোগ পরিস্থিতিতে সরকার দ্রুত মানবিক সহায়তা নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যে সুনামগঞ্জসহ হাওর অঞ্চলে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। এ ছাড়া জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকের মর্যাদা, অধিকার প্রদানে বর্তমান সরকার কতগুলো যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যা কখনোই এ অঞ্চলে তো হয়নি, দক্ষিণ এশিয়াতেও হয়নি, স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে হয়নি। সেটি হচ্ছে, কৃষকদের কৃষক কার্ড দেওয়া। সেটা সর্বজনীন এবং সেখানে ১০টি সেবা দেওয়া হচ্ছে। কার্ডটি দেওয়া হচ্ছে যাতে করে তিনি তালিকাভুক্ত হন এবং ১০টি সেবা পান।

এরপর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রথম পর্যায়ে প্রি–পাইলটিং শুরু হয়েছে। তারপরে পাইলটিং হবে এবং সারা দেশের যত কৃষক আছে এই আগামী চার বছরের মধ্যে তাদের দেওয়া হবে। তাহলে কৃষক পরিকল্পনা করতে পারবে, কৃষক ঠিক সময়ে বীজ পাবেন, ঠিক সময়ে কি ব্যবহার করতে হবে সেটি জানতে পারবেন। কোন অঞ্চলে কী ফসল কখন হতে পারে, অর্থাৎ অঞ্চলভেদ অনুযায়ী ফসলের যাতে পরিকল্পনা হতে পারে। এই রকম ১০টি বিষয় নিয়ে সরকার কাজ করছে।

হাওরের সমস্যার টেকসই সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, হাওর ও জলাশয় উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এর আওতায় কৃষি, পানিসম্পদ, মৎস্য ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করবে। পরিকল্পনায় খাল ও নদী পুনঃখনন, জলমগ্ন ও ডুবন্ত সড়কব্যবস্থার উন্নয়ন, সবুজবেষ্টনী গড়ে তোলা এবং মিঠাপানির মাছ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের উদ্যোগ থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন বলেছেন, হাওর শুধু কৃষির এলাকা নয়, এটি দেশের মিঠাপানির মাছ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ ভান্ডার। তাই পরিবেশ ও উৎপাদন দুটোই সমানভাবে রক্ষা করতে হবে।

রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, অপরিকল্পিত ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতিতে পরিযায়ী পাখির আগমন ও মাছের প্রজাতি কমে গেছে। এ বিষয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সরকার আগামী পাঁচ বছরের জন্য হাওর অঞ্চলের একটি সমন্বিত উন্নয়ন রোডম্যাপ তৈরির কাজ করছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মানবিক সহায়তার পাশাপাশি এখন প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়।

হাওর অঞ্চলে অতীতে অপরিকল্পিত অবকাঠামো, নদী ও খাল দখল, পলি জমা এবং জলপ্রবাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সক্ষম কৃষি পরিকল্পনার অভাবকেও তিনি একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাশেদ আল মাহমুদ আরও বলেন, অকালবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পুনরাবৃত্তি বিবেচনায় নিয়ে হাওর অঞ্চলের জন্য জলবায়ুসহনশীল ধানের জাত, সময়োপযোগী ফসল কাটার ব্যবস্থা এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণে গুরুত্ব দিতে হবে।

সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ আরও বলেন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিল কার্ড করতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে। যাতে নির্দিষ্ট একটি স্কোরের প্রয়োজন হচ্ছে। এর ওপরে হলে কার্ড দেওয়া হচ্ছে না। ভবিষ্যতে সুবিধাভোগী নির্বাচন আরও স্বচ্ছ করতে ‘বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি’ অনুসরণ করা হবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ত্রুটি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।