
মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে টর্চলাইট জ্বালিয়ে আবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। বুধবার রাত আটটার দিকে সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের বালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার বালিয়া গ্রামের নাসির হাওলাদারের সঙ্গে একই এলাকার আইয়ুব আলী মাতুব্বরের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সকালে আইয়ুব আলী মাতুব্বরের মেয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে নাসির হাওলাদারের স্ত্রী রুনি বেগমের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ নিয়ে দুপুরে নাসির হাওলাদারের স্ত্রী ও মেয়ে মিলে সুমাইয়াকে মারধর করেন। এর জের ধরে রাতে নাসির হাওলাদার ও আইয়ুব আলী মাতুব্বরের লোকজন দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এ সময় দুই পক্ষের লোকজন টর্চলাইট জ্বালিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া দেন। এতে আহত হন উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন। এ সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। খবর পেয়ে র্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত ব্যক্তিদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের লোকজন রাতের আধারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন। এ সময় তাঁরা কয়েকটি হাতবোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় আবার সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত শনিবার মাদারীপুর সদর উপজেলার ‘নতুন মাদারীপুর’ এলাকায় টর্চলাইট জ্বালিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় স্থানীয় দুটি পক্ষ। চার ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে অন্তত ১০০ বেশি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ ছাড়া সোমবার রাতে মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ ইউআই স্কুলের পেছনে বলরাম মন্দির এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের দুটি পক্ষ। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হন।