ডালে ডালে ফুটে আছে চোখজুড়ানো রুদ্রপলাশ ফুল। সোমবার সকালে মৌলভীবাজার পৌরসভার পুকুরপাড়ে
ডালে ডালে ফুটে আছে চোখজুড়ানো রুদ্রপলাশ ফুল। সোমবার সকালে মৌলভীবাজার পৌরসভার পুকুরপাড়ে

মৌলভীবাজারে অন্য গাছের ভিড়ে চোখজুড়ানো রুদ্রপলাশ

‘রাঙা হাসি রাশি রাশি অশোকে পলাশে’—পথ চলতে গাছটির দিকে চোখ পড়লে এমন মনে হয়। লাল ফুলগুলো যেন আনন্দে হেসেই চলেছে। পরিচিত অন্যান্য গাছের ভিড়ে আলাদাভাবে চোখে পড়ে রুদ্রপলাশগাছ। প্রায় প্রতিটি ডালের শেষ প্রান্তে ফুলের প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা।

সোমবার সকালে মৌলভীবাজার পৌরসভার পুকুরের দক্ষিণপাড়ের পূর্ব দিকে দাঁড়িয়ে থাকা রুদ্রপলাশগাছে অসংখ্য লাল ফুল ফুটে থাকতে দেখা যায়। কিছুটা মেঘলা এই সকালেও রুদ্রপলাশের আভিজাত্য ও স্বাতন্ত্র্য একটুও ম্লান হয়নি। সবুজ পাতার মাঝে উজ্জ্বল লাল ফুলগুলো প্রকৃতি যেন রংতুলিতে এঁকেছে।

কিছু কাঠশালিক, বুলবুলি উড়ে এসে বসছে ফুলের কাছে। সকালবেলা পাখিদের আনাগোনা বেশি থাকে। এই ফুলের রং পাখি ও পতঙ্গদের আকর্ষণ করে। এর একটি কারণ হলো, কিছু পাখি রুদ্রপলাশের বীজ খেয়ে থাকে। এ ছাড়া কলসির মতো এই ফুলের ভেতরে পানি জমা হয় যা মিষ্টি স্বাদের। পাখিরা এই পানি পান করে। এ জন্য গাছটিকে ‘ফাউন্টেন ট্রি’ও বলা হয়।

তবে শুধু সৌন্দর্যবর্ধনকারী ফুল হিসেবেই নয়, লোকজ চিকিৎসাতেও রুদ্রপলাশের ভূমিকা আছে। এই গাছের ছাল–পাতা ক্ষত ও ব্যথা সারাতে ব্যবহৃত হয়। মৌলভীবাজারে আরও দু–একটি স্থানে রুদ্রপলাশের গাছ লাগানো হয়েছে।

রুদ্রপলাশের আদি নিবাস আফ্রিকা অঞ্চলে। এর ইংরেজি নাম ‘আফ্রিকান টিউলিপ’। ১৫ থেকে ২০ মিটার উচ্চতাসম্পন্ন একটি চিরসবুজ গাছ এটি। তবে কখনো এর বেশি উচ্চতার গাছেরও দেখা মেলে। কাণ্ড সরল, শাখা-প্রশাখা এলোমেলো, বাকল হালকা ধূসর, মসৃণ ও আঁশযুক্ত।

দূর থেকেও ফুলের রং ও সৌন্দর্যের কারণে গাছটি আলাদাভাবে নজরে পড়ে। সোমবার সকালে মৌলভীবাজার পৌরসভার পুকুরপাড়ে

বসন্তের শুরুতে এই গাছের ডালে ডালে থোকায় থোকায় লাল রঙের ফুল ফোটে। কোথাও হলুদ রঙের রুদ্রপলাশেরও দেখা মেলে। ফুলের ভেতরের অংশ লালচে সোনালি। পাপড়ির চারপাশে হলুদ রঙের রেখা। পাতাগুলো শাখার শেষ দিকে থাকে বলে গাছটি ছায়াঘন নয়। বাদুড় এই ফুলের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং এরাই এই ফুলের বেশির ভাগ পরাগায়ন ঘটায়। এর ফল দেখতে বর্শার ফলকের মতো। সাধারণত বর্ষার শেষে ফল পাকে, বীজ থেকে চারা হয়। নৌকা আকৃতির একটি ফলে চার–পাঁচটি বীজ থাকে।