
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি দোকানে দর–কষাকষিকে কেন্দ্র করে দোকানি ও কর্মচারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের এক নেতা ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে। গতকাল রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম আবদুল্লাহ আল কাফি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ছাত্রদল নেতা কাফি পরিবহন মার্কেটে থাকা ‘হিমেল কম্পিউটার স্টেশনারী’ নামের একটি দোকানে একটি জিডি ও প্রবেশপত্রের আবেদন করার জন্য যান। আবেদনপ্রক্রিয়া শেষে দোকানি ২৮০ টাকা খরচ জানালে কাফি আপত্তি জানিয়ে ২০০ টাকা দিতে চান। এ নিয়ে দর–কষাকষির একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দোকানি কম্পিউটার স্ক্রিন বন্ধ করে দেন এবং তাঁকে চলে যেতে বলেন। পরে কাফি ও তাঁর কয়েকজন অনুসারী দোকানি ও কর্মচারীর ওপর হামলা চালান এবং দোকানের শাটার বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে দোকানি হিমেল বলেন, ‘আবেদনপ্রক্রিয়া বাবদ বিল হয়েছিল ২৮০ টাকা, কিন্তু তিনি ২০০ টাকা দিতে চেয়েছিলেন। আমি শেষ পর্যন্ত ২৫০ টাকা দিতে বললেও তিনি রাজি হননি। দোকান বন্ধের সময় হয়ে যাওয়ায় আমি তাঁকে জানাই—আমি চলে যাচ্ছি, আপনি চাইলে পাশের অন্যান্য দোকানে জিজ্ঞেস করতে পারেন। এরপর আমি কম্পিউটার বন্ধ করলে কাফি উত্তেজিত হয়ে বলেন, “কম্পিউটার বন্ধ কেন করলেন? আপনার দোকানই বন্ধ করে দেব।”’ তিনি আরও বলেন, ‘তিনি বারবার দোকান বন্ধ করার হুমকি দিচ্ছিলেন। আর পাওয়ার (ক্ষমতা) দেখাচ্ছিলেন। পরে আমি বলছি যান পারলে দোকান বন্ধ করে দেন। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে আমাকে মারা শুরু করে। তাঁরা চার-পাঁচজন। চেয়ার-টেবিল, টুল যা পেয়েছে, তা দিয়ে মেরেছে।’
অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল কাফি বলেন, ‘ফটোকপির দাম নিয়ে দোকানি অন্যায্য দাবি করায় আমি সঠিক দামে তা করার জন্য দর–কষাকষি করি। একপর্যায়ে দোকানি আমার কাগজ ছুড়ে ফেলে দেন এবং তাঁর কর্মচারী আমাদের ওপর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। পরে তাঁরা আমাদের ওপর আক্রমণ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়েও যদি বাইরের কেউ আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করে, তা খুবই দুঃখজনক।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উভয় পক্ষই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। এ নিয়ে কেউ অভিযোগ জানালে ঘটনা যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।