গুরুদাসপুরে কৌতুক অভিনেতা আবু হেনার ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ১

নাটোরের গুরুদাসপুরে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর প্রতিবাদ করায় কৌতুক অভিনেতা আবু হেনা রনির গাড়িতে হামলা করা হয়
ছবি: প্রথম আলো

নাটোরের গুরুদাসপুরে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর প্রতিবাদ করায় কৌতুক অভিনেতা আবু হেনা রনিসহ তাঁর দুই বন্ধু হামলার শিকার হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারের একটি সিনেমা হলের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িটিও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ারুজ্জামান তথ্যটি নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে জানান, গাড়ি ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় গতকাল রাতেই গুরুদাসপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে। রনির বন্ধু তহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় পৌর শহরের গাড়িষাপাড়া মহল্লার চাল ব্যবসায়ী ছাবলু মোল্লাকে (৪৫) প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় চার-পাঁচজনের নামোল্লেখসহ ছয়-সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে আলামিন মোল্লা (৩৩) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবু হেনা রনি তাঁর বন্ধুদের নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় চাঁচকৈড় বাজারের আনন্দ সিনেপ্লেক্সে সিনেমা দেখতে এসেছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে সড়কের পাশের ফাঁকা জায়গায় তিনি তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িটি রেখে পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় ছাবলু মোল্লা তাঁর প্রাইভেট কারটি বেপরোয়াভাবে চালাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে সড়কের পাশে দাঁড়ানো রনি ও তাঁর বন্ধুদের ওপর দিয়ে ছাবলুর গাড়িটি চালিয়ে দেওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় ছাবলু মোল্লা তাঁর গাড়িটি থামিয়ে আবু হেনা রনি ও তাঁর বন্ধুদের গালমন্দ শুরু করেন।

একপর্যায়ে ছাবলু মোল্লা ও তাঁর এক সহযোগী রনির দুই বন্ধু রাজু আহম্মেদ (৩৬) ও তহুরুল ইসলামকে (৩৫) মারধর করেন। তাঁদের রক্ষায় রনি ও তাঁর অন্য বন্ধুরা এগিয়ে এলে তাঁরাও হেনস্তার শিকার হন। স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলেও ছাবলু মোল্লার দাপটের কারণে তাঁদের রক্ষা করা যায়নি। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজু আহম্মেদ (৩৬) ও তহুরুল ইসলামকে (৩৫) গুরুদাসপুর উপজেলা কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম বলেন, শুরুতে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও পরে ছাবলু মোল্লা মুঠোফোনে তাঁর আত্মীয়স্বজনকে ডেকে এনে সড়কের ওপর শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে আবু হেনার দুই বন্ধু রাজু আহম্মেদ ও তহুরুল ইসলামকে বেধড়ক মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে সড়কের পাশে রাখা আবু হেনা রনির ব্যক্তিগত গাড়িটির সামনের ও পেছনের কাচ ভেঙে ফেলেন তাঁরা।

একপর্যায়ে গাড়ির চাবিটি নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে হামলার শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের গাড়িটি থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আবু হেনা রনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা (ছাবলু মোল্লারা) স্থানীয় হওয়ায় তাঁদের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর করেছেন। স্থানীয় বলেই তাঁরা এতটা দাপট দেখাবেন, এটা মোটেও কাম্য নয়। এই অন্যায়ের বিচার দাবি করেন তিনি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ছাবলু মোল্লা বলেন, ‘তাঁর ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনায় তাঁর বেশ কিছু আত্মীয় এসে তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাবে, বুঝতে পারেননি তিনি।

গুরুদাসপুর থানার ওসি মনোয়ারুজ্জামান বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা চলে যান। পরে সেখান থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ভাঙা প্রাইভেট কারসহ বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।