
প্রায় ছয় ফুট উঁচু ও আট ফুট লম্বা কালো দুটি মহিষ রাখা হয়েছে পাকা টিনশেডের ঘরে। গরমের কারণে মাথার ওপরে ২৪ ঘণ্টাই চলে বৈদ্যুতিক পাখা। দিনে দুই থেকে তিনবার গোসল করানো হয়। তাপমাত্রা বেশি হলে বাড়ির সামনের বাঁশবাগানে বেঁধে রাখা হয়। কখনো নামানো হয় বড় পুকুর বা খালের পানিতে।
দেহের আকৃতি ও ওজন বেশি হলেও মহিষ দুটি শান্ত স্বভাবের। খরচ বেশি হলেও বেশি দামে বিক্রি করা যায় বলে লাভও বেশি হয়। একটি মহিষের পেছনে দিনে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা খরচ হয়।
এ কথা জানান মহিষ দুটি লালনপালনকারী খামারি শাজাহান হোসেনের ছেলে বাসার হোসেন। তাঁর বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া বড় জামে মসজিদের সামনে।
খামারি শাজাহান হোসেন বলেন, মহিষ দুটির বয়স চার বছরের বেশি। দুই ছেলের সহায়তায় সেগুলো পালন করছেন। প্রতিটি মহিষের লেজ থেকে মাথা পর্যন্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ৮ ফুট এবং উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট, ওজন প্রায় ৪০ মণ। তিনি ১৪ লাখ টাকায় মহিষ দুটি বিক্রি করতে চান। সেই টাকায় আবার মহিষ কিনে বড় খামার করার স্বপ্ন দেখছেন।
গত রোববার বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, কুমারখালী শহর–পান্টি সড়কের যদুবয়রার জোতমোড়া বড় জামে মসজিদের সামনের বাঁশবাগানে বাঁধা রয়েছে বিশাল আকৃতির দুটি মহিষ। কখনো তাদের শরীরে পানি ঢালছেন, আবার কখনো ফিতা দিয়ে মাপজোখ করছেন খামারি বাবু ও তাঁর দুই ছেলে বাসার ও তুষার। মহিষ দুটি দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয় লোকজন।
বাসার হোসেন বলেন, তিন বছর আগে দুটি মহিষ বিক্রি করে ভালো লাভ হয়েছিল। সে কারণে এবার কোরবানির ঈদ উপলক্ষে প্রায় ৩ মাস আগে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় মহিষ দুটি কেনা হয়। প্রতিটি মহিষকে প্রতিদিন খড় ও কাঁচা ঘাসের পাশাপাশি ১৭ কেজি খাবার দেওয়া হয়। এতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা খরচ হয়।
খামারি শাজাহান হোসেনের আরেক ছেলে তুষার হোসেন বলেন, দেহের আকৃতি ও ওজন বেশি হলেও মহিষ খুব শান্ত প্রাণি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে লালনপালন করা হচ্ছে। ন্যায্য দাম পেলে দুই মহিষ বিক্রি করে প্রায় চার–পাঁচ লাখ টাকা লাভের প্রত্যাশা তাঁদের।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কুমারখালী উপজেলায় বিক্রির জন্য মাত্র ১৯টি মহিষ হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩ হাজার ৫৯৭টি খামারে মোট ৩০ হাজার ৫৭৯টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এবার উপজেলায় পশুর চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার, যা গত বছর ছিল প্রায় ১৫ হাজার।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে মহিষ পালন অধিক লাভজনক। গরু–ছাগলের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে মহিষ পালনে খামারিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।