
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া ইউটিউব ভিলেজ পার্কের চৌবাচ্চা থেকে মহাবিপন্ন প্রাণী ‘ঘড়িয়াল’ উদ্ধার করা হয়েছে। এটির দৈর্ঘ্য দুই ফুট ছয় ইঞ্চি। আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে এক সংবাদকর্মীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘড়িয়ালটি উদ্ধার করে বন বিভাগের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া একই স্থান থেকে তিনটি কাছিমও উদ্ধার করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জগতি বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবু বকর সিদ্দিক, খোকসা উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা গোলাম কাজী প্রমুখ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবরে শিমুলিয়ার একটি বিলে এক জেলের মাছ ধরা জালে ঘড়িয়ালটি ধরা পড়ে। এরপর জেলেরা ১ হাজার ৬০০ টাকায় এটিকে খোকসার শিমুলিয়া ইউটিউব ভিলেজ পার্কের মালিক দেলোয়ার হোসেনের কাছে বিক্রি করে দেন। পার্কের মালিক ঘড়িয়ালটিকে পার্কের ভেতরের একটি চৌবাচ্চায় জরাজীর্ণ অবস্থায় রেখে দেন। সম্প্রতি এক দর্শনার্থী ওই পার্কের চৌবাচ্চায় ঘড়িয়ালটিকে দেখে বেসরকারি একটি টেলিভিশনের এক সংবাদকর্মীকে জানান। ওই সংবাদকর্মী বিষয়টি খোকসা ও কুষ্টিয়া বন বিভাগের কর্মকর্তাদের জানান। এরপর আজ মঙ্গলবার বিকেলে পার্কটিতে অভিযান চালিয়ে মহাবিপন্ন প্রাণী ঘড়িয়াল ও কাছিম তিনটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগ।
কুষ্টিয়া বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭০ দশক থেকে মহাবিপন্ন প্রায় মিঠাপানির প্রাণী ঘড়িয়াল। বর্তমানে বাংলাদেশে চারটির মতো বড় ঘড়িয়াল নদীতে থাকার সম্ভাবনা আছে।
এ বিষয়ে শিমুলিয়া ইউটিউব ভিলেজ পার্কের মালিক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘অক্টোবর মাসে জেলের জালে ধরা পড়েছিল ঘড়িয়ালটি। ওই জেলেকে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে ঘড়িয়ালটি ক্রয় করে পার্কে রেখেছিলাম। তবে এভাবে প্রাণীটিকে রাখা অবৈধ, তা জানা ছিল না।’
কুষ্টিয়ার জগতি বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বিশ্বস্ত সূত্রে ও সাংবাদিকদের সহযোগিতায় ইউটিউব ভিলেজ পার্ক থেকে মহাবিপন্ন একটি ঘড়িয়াল ও তিনটি কাছিম উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে। তাঁর ভাষ্য, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ অনুযায়ী, ঘড়িয়াল ও কাছিম ধরা, মারা ও সংরক্ষণ করা বেআইনি। পরবর্তীকালে বিধিমতে পার্ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।