চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ডের শিকার চট্টলা এক্সপ্রেস চার ঘণ্টা পর ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে উপজেলার কুমিরা রেলস্টেশন থেকে ট্রেনটি ছেড়ে যায়। এর আগে চলন্ত অবস্থায় সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ভাটিয়ারি ইউনিয়নের বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) গেট এলাকায় এতে আগুন লাগে।
আগুনে পুড়ে যাওয়া পাওয়ার কার (বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী বগি) ও ক্ষতিগ্রস্ত একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগি রেখেই ট্রেননি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বগি দুটিকে চট্টগ্রামের রেলওয়ে মেরামত কারখানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রথম আলোর হাতে এসেছে। এটি নগরের ফৌজদারহাট রেলস্টেশন থেকে ধারণ করা। এতে দেখা যায়, সকাল ছয়টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি ফৌজদারহাট স্টেশন পার হচ্ছে। তখনই এতে আগুন দেখা গেছে। প্ল্যাটফর্মে থাকা চার ব্যক্তির মধ্যে দুজন আগুন দেখে চিৎকার করেন। তাঁরা ট্রেনের বগিতে থাকা যাত্রীদের সতর্ক করেন।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী মো. আশিকুর রহমান বলেন, আগুন লাগা ট্রেনটির অক্ষত বগিগুলোকে প্রথমে সীতাকুণ্ডের কুমিরা স্টেশনে নেওয়া হয়। পরে দুটি বগি চট্টগ্রাম থেকে কুমিরা স্টেশনে এনে সংযুক্ত করা হয়। এরপর সেটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত বগি দুটি চট্টগ্রামের মেরামত কারখানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আগুন লাগার এ ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। এতে রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) আনিসুর রহমানকে প্রধান করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে ফৌজদারহাট স্টেশনে ৩৫ মিনিট ও ভাটিয়ারি স্টেশনে ৮ মিনিট আটকে রাখা হয়। পাশাপাশি ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনকেও অন্তত ১০ মিনিট আটকে রাখা হয়।
ফৌজদারহাট স্টেশনে কথা হয় সিলেটগামী পাহাড়িকা ট্রেনের যাত্রী জমির উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার আইয়ুব বিবি সিটি করপোরেশন কলেজের প্রভাষক। তিনি বলেন, তিনি এক স্বজন নিয়ে সিলেট যাচ্ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে তাঁদের ট্রেনটিকে ফৌজদারহাট স্টেশনে আটকে রাখা হয়। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি ছেড়ে না যাওয়ায় এমনটি করা হয়েছে।
ফৌজদারহাট স্টেশনের স্টেশন মাস্টার নিতীশ চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে চট্টলা এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। এরপর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ও বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন দুটিও তাঁরা ছেড়েছেন।’
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ট্রেনটিতে আগুন লাগার কারণে কোনো যাত্রী কিংবা তাঁদের মালামালের ক্ষতি হয়নি। তবে ট্রেনে কেন আগুন লেগেছে সেটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।