
রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার বেলা তিনটার দিকে জেলায় ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মাঝারি তাপপ্রবাহ, ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে সেটিকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। রাজশাহীতে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রির বেশি হওয়ায় বর্তমানে মৃদু তাপপ্রবাহ বইছে।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। গতকাল শুক্রবার রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ বেলা তিনটায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি মৌসুমের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সহকারী আবহাওয়া পর্যবেক্ষক তারেক আজিজ বলেন, আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। তবে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলে তখন কিছুটা কমতে পারে।
এদিকে রোজার মধ্যে হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবনে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেই মানুষ জরুরি কাজে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন। নগরের সবচেয়ে বড় বিপণিবিতান আরডিএ মার্কেটে দুপুরের দিকে ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটায় ভিড় দেখা গেছে। তবে প্রচণ্ড গরমে অনেককেই হাঁপিয়ে উঠতে দেখা যায়।
নগরের বাসিন্দা আবু রায়হান বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে গরম বাড়ছে। আজকের গরমটা অনেক বেশি। মনে হচ্ছে, গা পুড়ে যাবে। ঈদের কেনাকাটা করতে এসে শরীরটা ঝিমিয়ে গেছে।’
নগরের আলুপট্টি মোড়ে আখের রস বিক্রি করেন রাকিব ইসলাম। তিনি বলেন, এবার রোজা শুরু হয়েছিল শীতের মধ্যে। এখন প্রচণ্ড গরম পড়েছে। রোজার মধ্যে ইফতারে মানুষ ঠান্ডা পানীয় খেতে চান। তাই গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আখের রসের বিক্রিও বেড়েছে।
বিকেলের দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক রিকশাচালককে গাছতলায় রিকশা রেখে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। যাত্রীও কম। আজ খুব রোদ। তাই ছায়ায় বসে একটু বিশ্রাম নিচ্ছি।’