
শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধক্যের কারণ দেখিয়ে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. ফারুকউজ্জামান মিয়া। একই সঙ্গে তিনি দলের প্রাথমিক সদস্যপদও ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ ঘোষণা দেন।
জানতে চাইলে সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি জেনেছি, তিনি আজ ফরিদপুরের সংবাদ সম্মেলন করে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। এ ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে আগে কোনো আলাপ করা হয়নি।’
ফারুকউজ্জামান মিয়া ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফারুকউজ্জামান মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন দায়িত্বপালনের পর বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধক্যের কারণে দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য তিনি সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভবিষ্যতে তিনি আর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হবেন না।
ফারুকউজ্জামান বলেন, এখন থেকে নিজ এলাকার মানুষকে নিয়ে কাজ করবেন এবং জনকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করবেন। তিনি জনপ্রিয়তার কারণে দুবার ইউপি চেয়ারম্যান হয়েছেন। ৫ আগস্টের আগে তাঁর নামে কোনো মামলা ছিল না। ৫ আগস্টের পর তাঁর নামে মোট পাঁচটি মামলা হয়েছে। তবে এখন প্রতিটি মামলায় জামিনে আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মিয়া, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. অহিদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা দুজনই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন।