
সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এ সমস্যা কমাতে সামনে থাকা গাড়ির ক্যামেরার ভিডিও সরাসরি পেছনের গাড়ি দেখানোর একটি প্রযুক্তিভিত্তিক ধারণা তৈরি করেছে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার একদল স্কুলশিক্ষার্থী। তাদের দাবি, এই ব্যবস্থা চালু হলে ওভারটেকিংয়ের আগে চালক সহজেই বিপরীত দিকের রাস্তার পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় বিরামপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’-এ প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। উপজেলা পর্যায়ের এ আয়োজনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিনা খাতুন।
বিরামপুর আদর্শ হাইস্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনের নাম দিয়েছে ‘ভেহিকল ফ্রন্ট ক্যামেরা স্ট্রিমিং সিস্টেম (ভিএফসিএসএস)’। প্রকল্পের অন্যতম উদ্ভাবক শিক্ষার্থী সিনহা তানজিম জানায়, গাড়ির সামনের অংশে একটি ইএসপি-৩২ ক্যামেরা বসানো থাকবে। ক্যামেরাটি বাইনারি সিস্টেমে ওয়ান ও জিরো বিটে আউটপুট দেবে। আর এ আউটপুট সংযোগ যাবে প্রধান ডেটা ম্যানেজারে। সেখান থেকে মাদারবোর্ডে ইএসপি ৩২ এসথ্রি অনু সিস্টেমে থাকা অ্যানটেনার মাধ্যমে ডেটাগুলো বিতরণ করা হবে। আর ডেটা বিতরণই ওয়াই-ফাই সিস্টেমের সৃষ্টি করবে। যখন সামনের গাড়ির ক্যামেরায় রাস্তার দৃশ্য ধারণ করা হবে, তখন সেটি ট্রান্সমিশন হয়ে পেছনের গাড়িতে মডিউলে সংযুক্ত থাকা ডিসপ্লেতে দেখা যাবে। ওই সময় সমান্তরালভাবে থাকা পেছনের গাড়ি সামনের গাড়িকে ওভারটেক করতে চাইলে চালক ডিসপ্লেতে দেখবেন বিপরীত দিক থেকে কোনো গাড়ি আছে কি না কিংবা রাস্তা ক্লিয়ার আছে কি না। যখন চালক নিশ্চিত হবেন যে গাড়ির সামনে আর কোনো গাড়ি নেই, তখন নিরাপদে গাড়ি ওভারটেক করতর পারবেন।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, চালক যদি ডিসপ্লেতে দেখে নিশ্চিত হতে পারেন যে সামনে বিপরীতমুখী কোনো যান নেই, তাহলে তিনি নিরাপদে ওভারটেক করতে পারবেন। এতে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে।
তবে ধারণাটিকে বাস্তবে রূপ দিতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। শিক্ষার্থীদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার অনুমোদন এবং বড় অঙ্কের অর্থায়ন প্রয়োজন। সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সহযোগিতা করলে দেশের সড়ক ও মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এতে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমতে পারে বলে তাঁরা আশা করছেন।
বিরামপুর আদর্শ হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক ময়নুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রকল্পটি তৈরি করেছে। তাদের এই সাফল্যে শিক্ষক হিসেবে তিনি গর্বিত। ভবিষ্যতে তারা আরও ভালো কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শমসের আলী মণ্ডল বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে শিক্ষার্থীদের এমন উদ্ভাবনী চিন্তা প্রশংসনীয়। এ প্রকল্প উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হয়েছে। তারা জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। জাতীয় পর্যায়েও স্বীকৃতি পেলে প্রকল্পটি দেশের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে।