
রাজবাড়ী সদর উপজেলার বেথুলিয়ায় জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় এক পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে আহত হয়ে আতর শেখ (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে আতর শেখকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এ ছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
এসব ঘটনার জেরে আজ মঙ্গলবার সকালে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আতর শেখের পরিবারের ওপর গতকাল ভোরে লোহার রড, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন।
আতর শেখের পরিবারের পক্ষ থেকে গতকাল রাতে করা মামলায় সৈয়দ শাহিন (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি স্থানীয় মিয়া পাড়ার সৈয়দ জাবেদ আলীর ছেলে।
বাদীপক্ষের লোকজন আজ ভোরে আসামিদের বাড়িতে আগুন দিলে চারটি ঘর পুড়ে যায়। এ ঘটনার পর এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন আছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, জমি নিয়ে স্থানীয় মিয়া পাড়ার সৈয়দ জাবেদ আলীর সঙ্গে খোন্দকার পাড়ার জলিল শেখের মধ্যে অনেক দিন ধরে বিরোধ চলছে। বিরোধপূর্ণ জমিতে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে সৈয়দ জাবেদ আলী বসতি গড়েন। কয়েক বছর আগে জলিল শেখ মারা যাওয়ায় তাঁর ছেলেরা নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে দুই মাস আগে একটি টিনের ছাপরা তৈরি করে ওই জমিতে বাস করতে থাকেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। স্থানীয়ভাবে সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি আদালতে গড়ায়।
এর মধ্যে গতকাল ভোরে সবাই সাহ্রি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিতভাবে জলিল শেখের পরিবারের ওপর হামলা চালায়। এতে আতর শেখ ও তাঁর পরিবারের ১৪ সদস্যসহ উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হন। আতরকে রাজবাড়ী থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যায় ফরিদপুর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জলিল শেখের ছেলে আহত ইদ্রিস শেখ বলেন, ‘গতকাল ভোরে সাহ্রি খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। সকাল ৭টার দিকে জাবেদ আলীর ছেলে ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি শামসুল হকের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন হামলা চালিয়ে নতুন বসতঘর ভাঙচুর করে আগুন দেয় এবং সবাইকে মারধর করে। খবর পেয়ে এগিয়ে এলে আমাদের ওপর হামলা করা হয়।’
অভিযুক্ত সৈয়দ শামসুল হককে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। বাড়ির নারী সদস্যরা বলেন, ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া জমিতে স্বাধীনতার পর থেকে তাঁরা বসবাস করছেন। অন্যায়ভাবে তারা জমি নিজেদের দাবি করে জোর করে দখলের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় বাধা দিলে মারধর ও ভাঙচুর করা হয়।
এদিকে গতকাল রাতে জলিল শেখের ছেলে রজব আলী শেখ বাদী হয়ে শামসুল হকসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৩০-৪০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে শামসুলের ভাই শাহিনকে গ্রেপ্তার করে।
রাজবাড়ী সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল মোল্লা বলেন, বাদীপক্ষের বিক্ষুব্ধ লোকজন আজ ভোর ৬টার দিকে আসামি আফাজ উদ্দিন ও রিফাজ উদ্দিনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।