নরসিংদী সদরের চরাঞ্চল আলোকবালী ইউনিয়নের কাজিরকান্দী গ্রামে সেতুটির কাঠ খুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার ভোরে ওই সেতুতে চলাচল করতে গিয়ে স্থানীয়রা ভাঙা অংশ দেখতে পান।
নরসিংদী সদরের চরাঞ্চল আলোকবালী ইউনিয়নের কাজিরকান্দী গ্রামে সেতুটির কাঠ খুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।  রোববার ভোরে ওই সেতুতে চলাচল করতে গিয়ে স্থানীয়রা ভাঙা অংশ দেখতে পান।

সেলাইয়ের মজুরি নিয়ে কথা–কাটাকাটির জেরে খুলে নেওয়া হলো সেতুর কাঠ

এক নারী বাজারের টেইলার্সে গেছেন বোরকা বানাতে। মজুরি নিয়ে ওই নারী টেইলার্সমালিকের সঙ্গে কথা–কাটাকাটিতে জড়ান। একপর্যায়ে ওই মালিক হাতে থাকা কাঁচি দিয়ে নারীকে মারতে উদ্যত হন। বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের এ ঘটনা জানান ওই নারী। পরে পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে দলবলসহ ওই দোকানে হামলা চালান। এর জের ধরে রাতে সামাজিকভাবে সবার সহযোগিতায় নির্মিত সেতুর একটি অংশের কাঠ খুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনা ঘটে গতকাল শনিবার রাতে, নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চল আলোকবালী ইউনিয়নের কাজিরকান্দী গ্রামে। আজ রোববার ভোরে ওই সেতুতে চলাচল করতে গিয়ে স্থানীয় লোকজন ভাঙা অংশ দেখতে পান। আলোকবালী ইউনিয়নের লোকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানতে চাচ্ছেন, সেতুটির কী দোষ? পরে অবশ্য কাঠ লাগিয়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল বিকেলে আলোকবালী ইউনিয়নের কাজিরকান্দী গ্রামের সুমনা টেইলার্সে বোরকা বানাতে যান পার্শ্ববর্তী সাতপাড়া গ্রামের এক নারী। বোরকা সেলাইয়ের মজুরি নিয়ে ওই নারীর সঙ্গে কথা–কাটাকাটি হয় টেইলার্সমালিক সোহরাব হোসেনের। একপর্যায়ে ওই নারীকে গালাগাল করেন তিনি। হাতে থাকা কাঁচি দিয়ে আঘাতের জন্য উদ্যত হওয়ার অভিযোগ ওঠে সোহরাবের বিরুদ্ধে। বাড়িতে ফিরে ওই নারী ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের জানান।

এদিন সন্ধ্যার দিকে ওই নারীর স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা ওই দোকানে গিয়ে সোহরাবের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে যান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের একপর্যায়ে সোহরাবকে মারধর এবং তাঁর দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। রাতেই সোহরাবের পক্ষের লোকজন হামলাকারীদের গ্রামে প্রবেশের পথে কাঠের সেতুতে ভাঙচুর চালান। তাঁরা সেতুর কাঠ খুলে নেন।

ওই কাঠের সেতুটির বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, সামাজিকভাবে সবার সহযোগিতায় প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০০ মিটারের ওই কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। তুচ্ছ বিষয়ে সেতুটির কাঠ খুলে নেওয়ার ঘটনায় আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। যাঁরা সেতু নির্মাণের সময় আমাদের অসহযোগিতা করেছিলেন, তাঁরাই সেতুর কাঠ খুলে নিয়েছেন। পরে সমালোচনার মুখে তাঁরাই আবার সেতুর কাঠ লাগিয়ে দিয়েছেন।’

আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আবদুল কাইয়ুম সরকারের ভাষ্য, একটি বোরকা সেলাইয়ের মজুরি নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনা ঘটে। একে কেন্দ্র করে তৃতীয় একটি পক্ষ সুযোগ নিয়েছে। প্রবাসী ও স্থানীয় লোকজনের অর্থায়নে নির্মিত কাঠের সেতুর কাঠ খুলে নিয়ে গেছেন তাঁরা। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করে প্রশাসন যেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।

জানতে চাইলে আলোকবালী ইউনিয়ন বিট পুলিশ কর্মকর্তা ও নরসিংদী মডেল থানার উপপরিদর্শক রামকৃষ্ণ দাস জানান, বোরকা সেলাইয়ের মজুরি নিয়ে কথা–কাটাকাটির জের ধরে সেতুটির কাঠ খুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে আবার তাঁরাই সেতু থেকে খুলে নেওয়া কাঠ লাগিয়েও দিয়েছেন। এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।