গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় নির্বাচনী প্রচার মিছিলকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হামলা ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় দুই পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের সালদৈ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের নেতা–কর্মীদের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহত ব্যক্তিরা হলেন ঘাগটিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী জাহিদ ভুঁইয়া, লতিফ ভুঁইয়াসহ তিনজন। অপর দিকে বিএনপির আহত ব্যক্তিরা হলেন স্থানীয় নেতা লাল মিয়া ও ছাত্রদল নেতা মো. রাজীব।
স্থানীয় লোকজন ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘাগটিয়া ইউনিয়নের সালদৈ বাজারে জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্বাচনী মিছিল প্রবেশ করে। ওই বাজারে বিএনপির কার্যালয়ের কাছে মিছিলটি যাওয়ার পর দুই পক্ষের নেতা–কর্মীদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নেতা–কর্মীরা আহত হন। পরে দুই পক্ষের নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এ প্রসঙ্গে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার নিজের ইউনিয়ন ঘাগটিয়া। সেখানে নির্বাচনী অফিসে আমার নেতা–কর্মীরা ভোটার স্লিপগুলো গোছাচ্ছিলেন। এমন সময় সেখানে জামায়াতে ইসলামীর একটি মিছিল অতর্কিতে অফিসে ঢুকে নেতা–কর্মীদের প্রহার করে। দুজন নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। আসবাবপত্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে। জামায়াতের নেতা–কর্মীদের ওপর কোনো হামলা হয়নি বলে আমি জেনেছি। বিনা উসকানিতে এমন হামলা চালানো হয়।’
পাল্টা অভিযোগ করে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আইউবী বলেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল শেষ করে জামায়াতের নেতা–কর্মীরা বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে তিনজনকে আহত করেন বিএনপির নেতা–কর্মীরা। পরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশ সদস্য মাওলানা শেফাউল হক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তাঁদের অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীনুর আলমকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি ধরেননি।