চাঁদপুর থেকে সপরিবার আত্মগোপন করা স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে (৪৫) চট্টগ্রাম থেকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট দাসপাড়া থেকে তাঁকে আটক করা হয়। দুপুরে তাঁকে চাঁদপুর মডেল থানায় এনে আত্মগোপনের উদ্দেশ্য জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে পিন্টু দাসের আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে সংবাদ ব্রিফিং করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) লুৎফুর রহমান। ব্রিফিংয়ে পিন্টু দাস কীভাবে চাঁদপুর থেকে আত্মগোপন করেন এবং তাঁর সন্ধান কীভাবে পাওয়া গেল, সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হয়।
চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা রোডের আখন্দ মার্কেটে ‘এস কে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়’ নামে পিন্টু দাসের একটি জুয়েলারি দোকান আছে। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে শহরের কালীবাড়ি মন্দির এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। তাঁর বিরুদ্ধে বন্ধকি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকাপয়সা আত্মসাৎ করে পালানোর অভিযোগ রয়েছে। ১৯ আগস্টের পর থেকে সপরিবার তাঁর খোঁজ না পাওয়ায় নিখোঁজ হয়েছেন নাকি আত্মগোপন করেছেন, সেটা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, পিন্টু দাস ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে চাঁদপুরের ভাড়া বাসার অধিকাংশ মালপত্র নিয়ে সপরিবার পালিয়ে যান। তিনি যে বাসায় ভাড়া থাকতেন, ওই ভবনের মালিক রাসেল খান ২২ আগস্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে পুলিশের কয়েকটি দল চাঁদপুর ও কুমিল্লায় পিন্টু দাসের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত সব জায়গায় অনুসন্ধান চালায়; কিন্তু তাঁর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, পিন্টু দাসকে পালিয়ে যেতে সহায়তাকারী ট্রাকচালকের মাধ্যমে তাঁকে ধরতে সক্ষম হয় পুলিশ। আজ চট্টগ্রামের পটিয়ার ধলঘাট দাসপাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে সপরিবার আটক করা হয়; কিন্তু কেন তিনি আত্মগোপনে গেলেন, তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের ঢাকার একটি টিমও সন্ধ্যা নাগাদ এসে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
লুৎফর রহমান আরও বলেন, পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে চাঁদপুরের তিনজন ব্যক্তি স্বর্ণ ও টাকাপয়সা পাওয়ার দাবি করে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে এখনো কোনো মামলা হয়নি। তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। কারণ, পুরো পরিবার নিয়ে তাঁর এই আত্মগোপনে যাওয়ার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা ও চাঁদপুরের ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।