ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের পদধারী নেত্রী সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলটির মনোনয়ন পেতে আবেদনও করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা।
আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত শ্যামল কান্তি বাড়ৈ নামের এক ব্যক্তি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘যাক, বর্তমান সরকারে আমাদের একজন প্রতিনিধি হলো।’ অন্যদিকে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাজু খান তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘ব্রেকিং নিউজ...কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা ঠাকুর বিএনপি থেকে মহিলা সংসদ সদস্য মনোনীত হয়েছেন।’
দলীয় সূত্র জানায়, সুবর্ণা ঠাকুর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক। ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের পর ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হয়। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত ওই তালিকার ২৭ নম্বরে তাঁর নাম রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতেও আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি দেখা গেছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর সুবর্ণা শিকদারের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তাঁর অতীতের কিছু বক্তব্য নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলটির মনোনয়ন পেতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মানবতার মা আমাকে মনোনয়ন দেবেন, আমি যাতে মানবকল্যাণে কাজ করতে পারি।’
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর নিজেকে কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদিকা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অবশ্য আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রমে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে একসময় কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, তবে এতে আমার কোনো সম্মতি ছিল না। আমাকে না জানিয়ে ওই তালিকায় নাম রাখা হয়। আমি কখনো সেই তালিকা দেখিনি এবং কোনো দলীয় কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করিনি।’
এক প্রশ্নের জবাবে সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর বলেন, ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগও করিনি। কারণ, বিষয়টি কখনো গ্রহণই করিনি। আমি মূলত ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকি এবং দেশ-বিদেশে যাতায়াত করতে হয়। ছাত্রজীবনে খুলনা সিটি কলেজে পড়ার সময় বিএনপির ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।’
সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের নির্বাহী সভাপতির দায়িত্বেও আছেন। এ বিষয়ে কথা হয় সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিদুর কান্তি বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন পরিবেশ সম্পাদকের পদটি ঠাকুর পরিবারের জন্য নির্ধারিত ছিল। এর আগে ওই পদে হিল্টু ঠাকুর ছিলেন। তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর সুবর্ণা শিকদার ঠাকুরের নাম লিখে রাখে।’
কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘দল যাঁকে যোগ্য মনে করেছে, তাঁকেই মনোনয়ন দিয়েছে। ত্যাগী নেত্রীদের মনোনয়ন দিলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বেশি খুশি হতেন। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই—আমাদের সবাইকে তা মেনে নিয়ে কাজ করতে হবে।’
এ বিষয়ে বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দলে নতুন কেউ আসতেই পারেন। তবে দীর্ঘদিন অন্য দলের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার পর হঠাৎ এসে মনোনয়ন পাওয়া ত্যাগী নেতা-কর্মীদের প্রতি অবিচার। এতে দলের ভেতরে বিভাজন তৈরি হতে পারে এবং তৃণমূল পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।