
বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনের বিএনপির প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম (মণি) বলেছেন, ‘আমি যত দিন এমপি ছিলাম, চাঁদাবাজি করায় পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তত দিন জেলে ছিল।’ গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাথরঘাটা উপজেলার খলিফার হাটে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আপনাদের কাছে একটা ঘটনা বলি, আমি যখন এমপি ছিলাম, তখন পাথরঘাটা ছাত্রদলের সভাপতি ছিল ছোট্ট। পাইলা ধরে চান্দা খেত ছোট্ট। চিংড়ি মাছের পোনার পাতিল থেকে চান্দা নিত। এটা শুনে আমি তিনবার নিষেধ করেছি। এরপর ওসিকে দিয়েও নিষেধ করিয়েছি। বলেছি, টাকাপয়সা লাগলে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য কর। কিন্তু আমার কথা শোনেনি। এরপর আমি যত দিন এমপি ছিলাম, তত দিন সে জেলেই ছিল।’
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় চাঁদাবাজদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপির প্রার্থী বলেন, ‘যাঁরা চান্দা খাইছেন, ভালো হয়ে যাবেন, এটা আমি অনুরোধ করি। ভালো না হলে ১২ তারিখে আপনারা ভোট দিয়ে আমাকে এমপি বানান, তাহলে চান্দাবাজরা ভালো হয়ে এখানে থাকবে, নয়তো বরগুনায় (জেলে) থাকবে। চান্দাবাজরা আজকে থেকে আপনারা সাবধান হয়ে যাবেন।’
উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) নুরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমি চান্দাবাজ পালিনি (প্রশ্রয়) এমপি থাকাকালীন ১৫ বছরে। আমি পালছি? আমার সাথে কোনো চান্দাবাজ হাঁটছে? কোনো চোর হাঁটছে? কোনো ডাকাত হাঁটছে? চান্দা খাইতে হবে না। চান্দাবাজদের জন্য কাজ জোগাড় করব। সেই কাজ করে আপনারা (চান্দাবাজরা) বড় হওয়ার চেষ্টা করবেন এবং ভালো থাকার চেষ্টা করবেন।’ জনসভায় জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘উল্টাপাল্টা করার কারণে দেশে কোনো দাঁড়িপাল্লা নাই। দাঁড়িপাল্লার দিন শেষ, ডিজিটাল বাংলাদেশ।’
বক্তব্যের বিষয়ে কথা বলতে নুরুল ইসলামের মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি ধরেননি। পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মোহম্মদ ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপিতে কোনো চাঁদাবাজের স্থান নেই। এই বিষয়টি বোঝাতেই মণি ভাই এই কথা বলেছেন। চাঁদাবাজদের তিনি সর্তকবার্তা দিয়েছেন।’