
রাজশাহী নগরের মহিষবাথান এলাকায় বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির জেরে এক সরকারি কর্মকর্তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যার সময় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহত কর্মকর্তার নাম ইসরাফিল হক। তিনি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ঢাকা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক। আজ সোমবার দুপুরে তিনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় বের হয়ে এসে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সাংবাদিকদের তিনি জানান, প্রায় দুই মাস আগে তিনি নগরের মহিষবাথান এলাকায় তাঁর তিন কাঠা জমিতে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। শুরু থেকেই স্থানীয় মারুফ হোসেন, মিমসহ কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর কাছে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। কখনো বালু-পাথর সরবরাহ, কখনো বাসার পাশে জায়গা রাখা নিয়ে, কখনো ঠিকাদারি বা রাস্তা ব্যবহারের কথা বলে লাখ লাখ টাকা দাবি করা হয়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে এর আগে কিছু টাকা দিয়েছেন।
ইসরাফিল হক বলেন, ‘আমি একজন সরকারি কর্মকর্তা। বাড়ি করার জন্যই ছুটি নিয়ে এসেছিলাম। বাড়ি করার সময় বিভিন্নভাবে আমার কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে। গতকাল ইফতারের আগে প্রায় ২৫ জনের একটি দল আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এ ঘটনায় ইসরাফিল হকের স্ত্রী বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় ৫ থেকে ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মারুফ হোসেন, মিম, তৌকির, নাহিদ, মাহিন, ইঞ্জিনিয়ার নাবিল ওরফে রিপনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাকিদের তিনি চেনেন না।
এ বিষয়ে মারুফ হোসেনকে ফোন করা হলে তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণাধীন বাড়ির পাশে জায়গা ছাড়া নিয়ে ঝামেলা চলছিল। বিরোধ সমাধানে স্থানীয় মুরুব্বি ও পুলিশের উপস্থিতিতে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মালেক বলেন, ‘বাড়ি করার সময় পাশে জায়গা ছাড়া নিয়ে সমস্যার বিষয়টি আমরা জানি। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ঝামেলা চলছে। এলাকার মুরুব্বি ও পুলিশও সমাধানের চেষ্টা করেছে। গতকালও বিকেলে পুলিশ গিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ চলে আসার পর ঘটনাটি ঘটেছে। তাঁর বাঁ হাতের কবজিতে গুরুতর আঘাত লেগেছে। মামলা নেওয়া হয়েছে এবং চাঁদা দাবির কথাও বলা হয়েছে। আমরা বিষয়গুলো তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবো। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’