নিহত রাজু শেখের স্ত্রীর আহাজারি। আজ মঙ্গলবার সকালে ফরিদপুর সদর উপজেলার কুটিবাড়ি মহল্লার স্টেশন বাজার মুসলিম কলোনি এলাকায়
নিহত রাজু শেখের স্ত্রীর আহাজারি। আজ মঙ্গলবার সকালে ফরিদপুর সদর উপজেলার কুটিবাড়ি মহল্লার স্টেশন বাজার মুসলিম কলোনি এলাকায়

ফরিদপুরে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা

ফরিদপুরে রাজু শেখ (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে শহরের স্টেশন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

নিহত রাজু শেখ ফরিদপুর শহরের দুই নম্বর কুটিবাড়ি মহল্লার স্টেশন বাজার মুসলিম কলোনি এলাকার বাসিন্দা বাবলু কসাইয়ের ছেলে। রাজুর স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে আছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ী শিল্পী বেগমের জামাতা হৃদয় শেখ ও তাঁর আরও চার থেকে পাঁচজন সহযোগী চাপাতি, রামদাসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাজু শেখের ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা রাজুর দুই পা ও ডান হাতের বিভিন্ন জায়গায় কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়। ঘটনার প্রায় ১০ মিনিট পর এলাকাবাসী গুরুতর আহত অবস্থায় রাজুকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহত রাজু শেখের মা ছবি বেগম বলেন, কিছুদিন আগে শহরের স্টেশন বাজার–সংলগ্ন লাশকাটা বস্তি এলাকায় সেনাবাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানকালে তারা মাদক ব্যবসায়ী শিল্পীকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক করে। এ ঘটনায় রাজু জড়িত সন্দেহ করে শিল্পীর জামাতা হৃদয় তাঁর সহযোগীদের নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

রাজু শেখের ছেলে নীরব অভিযোগ করে বলে, হৃদয় ও তার সহযোগীরা তার বাবাকে ধরে আগে চোখেমুখে হলুদের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। এ সময় তার বাবা নিচে পড়ে গেলে তাঁকে কুপিয়ে জখম করে এবং পায়ের রগ কেটে দেয়।

রাজুর বাবা বাবলু কসাই বলেন, ‘আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই, ফাঁসি চাই। বিচার না হলে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বাড়তেই থাকবে।’

পুলিশ জানায়, রাজুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে হৃদয় শেখ নামে যার কথা শোনা যাচ্ছে, সে একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী এবং একাধিকবার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।’ তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে এবং এ পর্যন্ত সন্দেভাজন তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনার এজাহার এখনো আমরা পাইনি। এজাহার পাওয়ার পর দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জন্য সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে। ফরিদপুর রেলস্টেশন কলোনি ও বস্তি এলাকায় মাদকের কারবার হয় বলে আমরা জানতে পেরেছি। এ দুই জায়গায় যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত, তাদের তালিকা করে গ্রেপ্তারের অভিযান শুরু হবে।’