তাসনিয়া হোসেন
তাসনিয়া হোসেন

স্কুলছাত্রীকে গলা কেটে হত্যা, গৃহশিক্ষকের মৃত্যুদণ্ড

নোয়াখালী শহরে স্কুলছাত্রী তাসনিয়া হোসেন ওরফে অদিতা (১৪) হত্যা মামলায় তার সাবেক গৃহশিক্ষকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম সিকদার এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত গৃহশিক্ষকের নাম আবদুর রহিম ওরফে রনি (৩০)। রায় ঘোষণার সময় তিনি আসামির কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাঁকে জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত স্কুলছাত্রী তাসনিয়ার পরিবার।

তাসনিয়া নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেন সরকারের মেয়ে। তাঁর মায়ের নাম রাজিয়া সুলতানা। নোয়াখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল সে। ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলের দিকে লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার জাহান মঞ্জিল থেকে তাসনিয়ার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলা, হাত ও পায়ের রগ কাটা ছিল। তাসনিয়ার গলায় ও ঘাড়ে নখের আঁচড়ের সূত্র ধরে ওই দিন রাতে পুলিশ তার সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম ওরফে রনিকে গ্রেপ্তার করে। পরে রনির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, বালিশসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে পুলিশ। পরে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আবদুর রহিম।

মামলার এজাহারে অভিযোগ আনা হয়, স্কুলছাত্রী তাসনিয়া গৃহশিক্ষক রনির কাছে পড়া বন্ধ করে অন্যত্র কোচিং শুরু করে। এতে ক্ষুব্ধ হন রনি। ঘটনার দিন তাসনিয়ার মা বাসায় ছিলেন না। এই সুযোগে বাসায় প্রবেশ করে তাসনিয়াকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এতে ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে গলা কেটে তাসনিয়াকে হত্যা করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আবদুর রহিম ওরফে রনি

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে বাদীপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এরপর আদালত রায় দেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত তাসনিয়ার মা রাজিয়া সুলতানা প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রায় চার বছর ধরে এই রায় শোনার অপেক্ষায় ছিলাম। আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ায় আমি খুশি। আমার একটাই চাওয়া, আমার মতো কোনো মাকে যেন অকালে সন্তানহারা হতে না হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘রায় দিলেই হবে না। রায় দ্রুত কার্যকর করতে হবে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর দ্রুত ফাঁসি কার্যকর দেখতে চাই।’

ট্রাইব্যুনালে নিযুক্ত রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সেলিম শাহী আদালতের রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘আদালত যে আদেশ দিয়েছেন, তাতে আমরা সন্তুষ্ট। আসামি অপরাধ অনুযায়ী তাঁর প্রাপ্য সাজাই পেয়েছেন। এই রায় শুধু নোয়াখালীর নয়, সারা দেশের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’