শরীয়তপুর–২ আসনের নড়িয়া উপজেলার এক নম্বর মসুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের একটি দল
শরীয়তপুর–২ আসনের নড়িয়া উপজেলার এক নম্বর মসুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের একটি দল

শরীয়তপুর-২ আসনের ৪০টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিতের আবেদন জামায়াত প্রার্থীর

শরীয়তপুর–২ (নড়িয়া এবং ভেদরগঞ্জ আংশিক) আসনের ৪০টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিতের আবেদন জানিয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদ হোসেন। তাঁর পক্ষে প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোয়াজ্জেম হোসেন (মিলন) বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আর বিকেল চারটার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান প্রার্থী মাহমুদ হোসেন।

আসনটিতে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদ হোসেন। আর বিএনপির প্রার্থী সফিকুর রহমান। ওই দুজনের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। নড়িয়া উপজেলা ও সখিপুর থানার ১৩৬টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।

আসনে বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়ম, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরিপ্রেক্ষিতে ভোট কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণার আবেদন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। তিনি অভিযোগ করেন, বেশ কিছু কেন্দ্রে বিএনপির পক্ষে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনে দায়ের করা আবেদনে জামায়াতের পক্ষে দাবি করা হয়, শরীয়তপুর-২ আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান, এক ব্যক্তির ভোট অন্য ব্যক্তি দ্বারা প্রদান, বুথে নির্দিষ্ট প্রতীকে প্রকাশ্যে সিল মারতে বাধ্য করা, বিএনপির এজেন্টদের সামনে প্রকাশ্যে ব্যালটে সিল প্রদান এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার মতো অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীর এজেন্টদের বাড়িতে গিয়ে নির্বাচনের আগের রাতে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জামায়াতের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের আজকের মধ্যেই এলাকা থেকে বের হয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। কিছু কেন্দ্রে ভোটারদের প্রকাশ্যে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটারদের অর্থের প্রলোভন দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি জামায়াতের।

এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও মোতায়েনকৃত সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হলেও তাঁরা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলে জামায়াতের আবেদনে দাবি করা হয়। দলটির ভাষ্য, সেনাবাহিনী রাস্তায় টহল দিলেও অনেক ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ না করে স্বল্প সময় অবস্থান করে চলে গেছেন, ফলে অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি।

৪০টি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রার্থী মাহমুদ হোসেন। বিকেল চারটায় তাঁর সখিপুর থানার চরভাগা ইউনিয়নের গৌরাঙ্গ বাজার এলাকায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নড়িয়া ও সখিপুরে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে আমাদের কর্মী–সমর্থকদের হেনস্তা করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে আমাদের এজেন্টদের থাকতে দেওয়া হয়নি। বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে সিল মারা হয়েছে, জাল ভোট দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি কেন্দ্রে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমাদের সুনিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে তাঁর সমর্থকেরা এ কাজগুলো করেছেন। এ কারণে আমরা ৪০টি নির্বাচনী কেন্দ্রের ভোট স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছি।’

জামায়াত প্রার্থীর এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির প্রার্থী শফিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শরীয়তপুর–২ নির্বাচনী এলাকার ১৩৬টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কোনো কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছেও কোনো অভিযোগ করেননি। ভোট গ্রহণের শেষ মুহূর্তে এসে নিজের পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর এখন ভোট স্থগিতের হাস্যকর দাবি তুলছেন, যা শরীয়তপুর–২ নির্বাচনী এলাকার মানুষ কখনো মেনে নেবে না।

জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘শরীয়তপুর–২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছেন, তা আমি পেয়েছি। ওই আবেদনে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে, তেমন কোনো ঘটনা নির্বাচনী এলাকার কেন্দ্রগুলোতে ঘটেনি। এ কারণে ভোট স্থগিত করার সুযোগ তেমন নেই।’