নিহত কাবুল চৌধুরীর দুই সন্তান আনিকা ও ইব্রাহিম। আজ মঙ্গলবার ফরিদপুর সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে
নিহত কাবুল চৌধুরীর দুই সন্তান আনিকা  ও ইব্রাহিম। আজ মঙ্গলবার ফরিদপুর সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে

ফরিদপুরে তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা

রিকশাচালক কাবুল ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, পরিবার কীভাবে ঋণের কিস্তি দেবে

ফরিদপুরে প্রতিবেশীকে রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন রিকশাচালক কাবুল চৌধুরী। তাঁর নিজের জমি নেই। বোনের জমিতে ছাপরা ঘর তুলে তিনি স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে থাকতেন। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গত সপ্তাহে তিনি একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কিনেছিলেন। একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যের মৃত্যুতে পরিবারটি অকূল সাগরে পড়েছে।

নিহত কাবুল চৌধুরীর বাড়ি ফরিদপুর সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে। গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে ওই গ্রামে দাদি ও ফুফুকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আকাশ মোল্লা (৪০) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। ওই দুজনকে রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন কাবুল চৌধুরী। ওই ঘটনায় প্রতিবেশী আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ আকাশ মোল্লাকে আটক করেছে। তিনি ওই গ্রামের হারুন মোল্লার ছেলে।

আজ বেলা ১১টার দিকে গদাধরডাঙ্গী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা কাবুল চৌধুরীর বাড়িতে ভিড় জমিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৩৬) বাড়িতে নেই, থানায় গেছেন। দুই সন্তান আনিকা (১১) ও ইব্রাহিম (৬) এদিক–সেদিক ঘোরাঘুরি করছে। আনিকা স্থানীয় সাদীপুর উচ্চবিদ্যলয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। ইব্রাহিম এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুশ্রেণিতে পড়ে।

কোহিনূর বেগমের বোন শাবানা বেগম (৩০) জানান, সারা দিন রিকশা চালিয়ে কাবুল যে টাকা উপার্জন করতেন, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলত। কাবুলের মৃত্যুর পর পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাবুল চৌধুরী রিকশা নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। তিনি যখন আকাশ মোল্লার (২৮) বাড়ি অতিক্রম করছিলেন, তখন চিৎকার–চেচামেচি শুনে ওই বাড়ির সামনে রিকশা রেখে ভেতরে ঢোকেন। তিনি আকাশের হাত থেকে আমেনা বেগম (৮০) ও তাঁর মেয়ে রাহেলা বেগমকে (৫০) বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তখন আকাশের কোদালের কোপে কাবুল চৌধুরীও ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

কাবুল চৌধুরীর প্রতিবেশী মমতা বেগম (৬৫) বলেন, বিভিন্ন এনজিও থেকে কিস্তি নিয়ে এক সপ্তাহ আগে কাবুল একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা কিনেছিলেন। কিস্তির টাকা পরিবারের মাথায় চাপিয়ে তাঁকে বিদায় নিতে হলো। পরিবারটির বেঁচে থাকাটাই এখন সমস্যা। তারা কিস্তির টাকা কীভাবে পরিশোধ করবে?

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত আকাশকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলাসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান।