সিলেট থেকে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে সরাসরি বিমানের ফ্লাইট চালু রাখার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন। আজ রোববার দুপুরে সিলেট নগরের জিন্দাবাজার এলাকার একটি রেস্তোরাঁর মিলনায়তনে
সিলেট থেকে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে সরাসরি বিমানের ফ্লাইট চালু রাখার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন। আজ রোববার দুপুরে সিলেট নগরের জিন্দাবাজার এলাকার একটি রেস্তোরাঁর মিলনায়তনে

সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট চালু রাখার দাবিতে ‘মার্চ ফর বিমান’ কর্মসূচি ঘোষণা

সিলেট থেকে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে সরাসরি বিমানের ফ্লাইট চালু রাখার দাবিতে আজ রোববার সিলেটে ‘মার্চ ফর বিমান’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নগরের চৌহাট্টা এলাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিমান অফিস অভিমুখে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

আজ দুপুরে নগরের জিন্দাবাজার এলাকার একটি রেস্তোরাঁর মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়েছেন ইউকে এনআরবি সোসাইটি ও নর্থ ইউকে বাংলাদেশি হেরিটেজ কাউন্সিলরস ফোরামের নেতারা। এ সময় লিখিত বক্তব্য দেন ইউকে এনআরবি সোসাইটির পরিচালক এম জুনেদ আহমদ।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নজরুল ইসলাম (বাসন), ইউকে এনআরবি সোসাইটির পরিচালক মিজানুর রহমান, ওল্ডহাম বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জামাল উদ্দিন, ইউকে এনআরবি সোসাইটি সিলেটের সমন্বয়ক সাংবাদিক ওয়েছ খসরু, ওল্ডহামের ব্যবসায়ী কামাল রব, কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হক, ব্রিটিশ বাংলাদেশি প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী আকি রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালে যখন এই রুটে ফ্লাইট চালু হয়, তখন বিমানের প্রচারণার অভাবে বিজনেস ক্লাসে যাত্রী কম ছিল। কিন্তু গত হজ মৌসুমের পরবর্তী সময় থেকে বিজনেস ক্লাসে কোনো সিট খালি থাকেনি। প্রতি সপ্তাহে রবি ও মঙ্গলবার সিলেট থেকে ম্যানচেস্টার রুটে বিমান চলাচল করে। যুক্তরাজ্যের নর্থ ইংল্যান্ডে বসবাসরত সাত–আট লাখ প্রবাসীর যাতায়াতসুবিধার কথা বিবেচনা করে বিমান কর্তৃপক্ষ রুটটি চালু করে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চালু করায় প্রবাসীরা ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টার মধ্যে সিলেটে এসে পৌঁছাতে পারেন। এ রুট বন্ধ হয়ে গেলে প্রবাসীদের আসতে সময় লাগবে ২২ থেকে ২৪ ঘণ্টা। কারণ, এতে সড়কপথে চার থেকে ছয় ঘণ্টা ভ্রমণ করে হিথ্রো হয়ে ঢাকা কিংবা সিলেটে আসতে হবে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হবেন জ্যেষ্ঠ নাগরিক, নারী ও শিশুরা।

এম জুনেদ আহমদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ ম্যানচেস্টার ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িক স্থগিত প্রসঙ্গে যে বক্তব্য প্রদান করেছে, সেটি দেখে আমরা বিস্মিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। এমন মিথ্যাচার রাষ্ট্রীয় একটি সংস্থা করতে পারে, সেটি আমরা কল্পনা করতে পারছি না। বিমান কর্তৃপক্ষ বলেছে, সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটটিতে লোকসান হচ্ছে। আমাদের প্রশ্ন হলো, যে রুটে বিমান কর্তৃপক্ষ ৮৩ শতাংশ ব্যবসা করে, সেই রুটে কীভাবে লোকসান হয়? বেশির ভাগ যাত্রী ৭০০ থেকে ৮০০ পাউন্ডের টিকিট ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ পাউন্ডে ক্রয় করেন। বিমানের একটি অসাধু চক্র এই টাকা লোপাট করে প্রতিমুহূর্তেই ফ্লাইটটিকে লোকসান দেখানোর পাঁয়তারা করছে। আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলছি, সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটটি অলাভজনক নয়।’