মাদারীপুর–২ আসনের বিএনপির প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়ার সমর্থকদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্যর গণসংযোগ চলাকালে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার কালীর বাজার এলাকায়
মাদারীপুর–২ আসনের বিএনপির প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়ার সমর্থকদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্যর গণসংযোগ চলাকালে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার কালীর বাজার এলাকায়

মাদারীপুরে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মিল্টনসহ তাঁর ৫ অনুসারীর ওপর হামলার অভিযোগ

মাদারীপুর–২ (সদর একাংশ ও রাজৈর উপজেলা) আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্যর গণসংযোগে বিএনপির প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়ার সমর্থকেরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় মিল্টন বৈদ্যসহ তাঁর অন্তত পাঁচ কর্মীকে হাতুড়িপেটা করা হয়। আজ বুধবার বেলা দেড়টার দিকে সদর উপজেলার কালীর বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় গুরুতর আহত বেল্লাল হোসেন নামের একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে নির্বাচনী এলাকায় দুই প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ধানের শীষের প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, ‘ধানের শীষের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে প্রতিরোধ করেন আমার সমর্থকেরা। তবে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি। আমার নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করেছে মিল্টনের লোকজন। আমি এর বিচার চাই।’

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে কর্মী–সমর্থক নিয়ে কালীর বাজার এলাকায় গণসংযোগে যান কলস প্রতীকের প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য। গণসংযোগ চলাকালে ধানের শীষের প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়ার সমর্থকেরা মিল্টন বৈদ্যকে লক্ষ্য করে হামলা চালান। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ তাঁর পাঁচ কর্মীকে হাতুড়িপেটা করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাইফুল ইসলাম বলেন, বাজারে শান্তিপূর্ণভাবে লিফলেট বিতরণ করে প্রচার চালাচ্ছিলেন মিল্টন বৈদ্য। হঠাৎ বিএনপির ধানের শীষের একটি প্রচার মাইক আসার পরই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। পরে মিল্টন বৈদ্যর সমর্থকদের লক্ষ্য করে কয়েকজন হাতুড়ি দিয়ে পেটাতে থাকেন। বেল্লাল হোসেন ও মহিদুল মাতুব্বর ছাড়া প্রার্থী মিল্টন বৈদ্যকে আঘাত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে আসায় পরিস্থিতি ২০ মিনিটের মধ্যে শান্ত হয়ে যায়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিনা উসকানিতে ধানের শীষের স্লোগান দিয়ে আমার কর্মী–সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আমার অন্তত ১০ কর্মীকে আহত করা হয়েছে। ছিনিয়ে নেওয়া হয় একাধিক মুঠোফোন। প্রশাসন আইনি পদক্ষেপ না নিলে সুষ্ঠু নির্বাচনে এই হামলা বড় বাধা হতে পারে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া নিয়ে আমি আতঙ্কিত।’

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওই এলাকায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।