
৬০০ কর্মীর বকেয়া তিন মাসের মধ্যে এক মাসের বেতন পরিশোধ করে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে চালডাল ডটকম। কর্মীরা পুরোদমে কাজে যোগ দিয়েছেন। বকেয়া দুই মাসের বেতন দ্রুত পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে কোম্পানির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাহাবুব এম এম মুনতাসিন বলেন, ‘যশোর আইটি পার্কে কর্মরত ৬০০ কর্মীর বকেয়া তিন মাসের বেতন একবারে পরিশোধ করা এই মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কঠিন। আপাতত আমরা এক মাসের বেতন পরিশোধ করেছি। এবং অল্প সময়ের মধ্যে বকেয়া দুই মাসের বেতন পরিশোধ করা হবে। প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এটা মেনে নিয়ে কাজে যোগ দিয়েছেন।’
মাহাবুব এম এম মুনতাসিন আরও বলেন, ‘চালডাল একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান। ধারাবাহিক বিনিয়োগ না থাকলে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের পক্ষে টিকে থাকা খুব কঠিন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে আমাদের প্রতিষ্ঠানে তারল্য সংকর দেখা দেয়। এ কারণে আমরা কর্মীদের বেতন ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারিনি। এখন নির্বাচিত সরকার এসেছে, আমরা আশাবাদী যে আমাদের প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠবে।’
কর্মীদের পক্ষে আজমীর ফেরদৌস বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানে আমাদের মতো কর্মীদের রুটি–রুজি নির্বাহ হয়। প্রতিষ্ঠানের ভালো-মন্দ আমাদেরও দেখার দায়িত্ব। আমরা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট বিবেচনা করে তিন মাসের মধ্যে আপাতত এক মাসের বকেয়া বেতন নিয়ে কাজ শুরু করেছি। আন্দোলনের কারণে প্রতিষ্ঠানের যে ক্ষতি হয়েছে, তা আমরা পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। গতকাল কাজ শুরুর প্রথম দিনই আমরা দ্বিগুণ সেলস দিয়েছি।’
আজমীর ফেরদৌস আরও বলেন, ‘আমাদের ১০ দফা দাবি রয়েছে। এর মধ্যে কিছু দাবি প্রতিষ্ঠান মেনে নিয়েছে। এরপর যদি আবার কর্মীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে প্রতিষ্ঠান পদক্ষেপ নেয়, তাহলে আমরা আবার আন্দোলন শুরু করব।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের হেড অব মার্কেটিং লুসবুন উদিতি, যুগ্ম পরিচালক শাহাদাত হোসেন ও আজিজুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাকার বাইরে যশোরে প্রথম ২০১৯ সালে ২৮ জন কর্মী নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের কল সেন্টারের যাত্রা শুরু হয়। ২০২২ সালে এক হাজার কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের ভালোই প্রবৃদ্ধি ছিল। ২০২৪ সালের দিকে প্রস্তুতি খারাপ হয়। তখন কর্মী কমিয়ে ৬০০ জনে নামিয়ে আনা হয়।