
শরীয়তপুর সদরের শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ভাষানী খানের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার রাতে দুর্বৃত্তরা তাঁর বাড়িসহ সমর্থকদের ৯টি বাড়িতে ভাঙচুর এবং ৩টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে। সদর উপজেলার চরগয়ঘর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভাষানী খান শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। ১৭ জানুয়ারি তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সাত দিনের মাথায় তাঁর ও সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভাষানী খান ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে বিজয়ী হন। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেনের অনুসারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন ভাষানী খান। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এলাকায় ফেরেন। ১৭ জানুয়ারি শরীয়তপুর-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলামের একটি সভায় উপস্থিত হয়ে ভাষানী খান নিজের পাঁচ শতাধিক সমর্থক নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, গতকাল রাতে দুর্বৃত্তরা প্রথমে ভাষানী খানের বাড়িতে হামলা চালায়। একপর্যায়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। এরপর বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পরে দলবদ্ধ হয়ে তাঁর সমর্থকদের আরও আটটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট এবং তিনটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
ঘটনার সময় ভাষানী খান বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর স্বজনেরা বলেন, বৃহস্পতিবার তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেছেন। এ বিষয়ে ভাষানী খানের শাশুড়ি রাশিদা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বাড়িতে ছিলাম। ককটেলের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। এরপর ১৫-২০ জন দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। কেন বা কারা এই হামলা করেছে, তা বুঝতে পারছি না।’
ভাষানীর সমর্থকদের মধ্যে ইদ্রিস খান নামের একজনের বসতঘর পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমরা বিএনপিতে যোগদান করেছিলাম। এ কারণে স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষ আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। পক্ষটি কয়েক দিন ধরে হুমকি দিচ্ছিল।’
খবর শুনে আজ শনিবার সকালে এলাকাটিতে যান শরীয়তপুর-১ (শরীয়তপুর সদর ও জাজিরা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এভাবে সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি নির্বাচনের পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলবে। এই হামলাকারীরা যে দলের হোক, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি মন্তব্য করে শরীয়তপুর সদরের চিকন্দী পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক গোলাম রাসুল বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।’