নিখোঁজের তিন দিন পর ৩ এপ্রিল মাগুরা পৌরসভার মীরপাড়া এলাকার একটি কলাবাগান থেকে কিশোর সুমন মোল্যার (১৬) ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে আজ বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন জেলা পুলিশ সুপার। তিনি জানান হয়, একটি মুঠোফোন বন্ধক রাখা নিয়ে বিরোধের জের ধরে ‘বন্ধুদের’ হাতে ওই কিশোরকে হত্যার শিকার হতে হয়েছে।
দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত কয়েক দিনে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয় মাগুরা সদর উপজেলার মীরপাড়া এলাকার মেহনাজ হোসেন ওরফে জিহাদ (২৪), জুইতারা গ্রামের জুয়েল হোসেন (২৩), মো. শাকিব শেখ (১৯)। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাতে রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মাগুরা সদরের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের তরিকুল ইসলামকে (২৬) এবং সদরের কুকিলা গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয় নিশ্চিন্তপুর গ্রামের হৃদয় হোসেনকে (২৮)। গ্রেপ্তার হওয়া তারিকুল ইসলাম এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের একজন।
সংবাদ সম্মেলনে জানান হয়, সুমন মোল্যার একটি মুঠোফোন বন্ধক রাখা নিয়ে আসামিদের সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য চলছিল। ৩১ মার্চ রাত ১০টার দিকে বিষয়টি নিয়ে সুমনের সঙ্গে অভিযুক্তদের তুমুল বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা সুমনের মাথায় আঘাত করলে সে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে। এরপর তাঁরা সুমনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নৃশংসভাবে মারধর করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করার পর সবশেষে শ্বাসনালি কেটে দেওয়া হয়। এরপর আসামিরা মরদেহটি পাশের একটি কলাবাগানে ফেলে পালিয়ে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, ৩১ মার্চ নিখোঁজ হওয়ার পর ২ এপ্রিল সদর থানায় একটি অভিযোগ দেয় সুমনের পরিবার। ৩ এপ্রিল বিকেলে দক্ষিণ মীরপাড়া মাঠপাড়া এলাকায় জনৈক আয়নাল মোল্লার মাছের ঘের সংলগ্ন কলাবাগান থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর গত ৪ এপ্রিল মাগুরা সদর থানায় অজ্ঞাত আসামিদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন সুমনের দাদি জাহানারা। নিহত সুমন মাগুরা পৌরসভার মীরপাড়া এলাকার শরিফুল ইসলামের ছেলে। সে পেশায় রিকশাচালক ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, মাত্র একটি মুঠোফোন বন্ধক রাখাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা সবাই ভিকটিমের সমবয়সী এবং বন্ধু ছিল। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁরা সবাই গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত ছিলেন। গত রাতে গ্রেপ্তার হওয়া তরিকুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় আরও কেউ সংশ্লিষ্ট আছে কি না, তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিদের আদালতে তোলা হবে।