জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পাবনায় বিক্রয় প্রতিনিধিরা চিন্তিত
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পাবনায় বিক্রয় প্রতিনিধিরা  চিন্তিত

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পাবনায় বিক্রয় প্রতিনিধিরা দিশাহারা

ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে মো. মাসুদ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন। যাতায়াত বিলসহ সব মিলিয়ে মাসে তাঁর আয় প্রায় ২৭ হাজার টাকা। তাঁকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কিলোমিটার মোটরসাইকেলে ঘুরে কাজ করতে হয়; জ্বালানি বাবদ মাসে খরচ হয় ৭-৮ হাজার টাকা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর খরচ বাড়বে দুই হাজার টাকা বেশি।

মো. মাসুদের বাড়ি পাবনার বেড়া পৌরসভায়। গতকাল রোববার তিনি বলেন, ‘পেট্রলপাম্পে গেলে তেল পাওয়া যায় না। কখনো তিন ঘণ্টা, কখনো চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে দিনের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। তার ওপর আবার লিটারপ্রতি ১৯ টাকা দাম বাড়ল। আগেই সংসার চালাতে হিমশিম খেতাম, এখন তো একেবারে দিশাহারা হয়ে পড়েছি।’

বেড়া উপজেলায় মো. মাসুদের মতো ওষুধ কোম্পানির শতাধিক বিক্রয় প্রতিনিধি রয়েছেন। এ ছাড়া অন্যান্য পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানির আরও শতাধিক বিক্রয় প্রতিনিধি রয়েছেন। সবার অবস্থাই এখন মো. মাসুদের মতো। এমনিতেই পেট্রলপাম্পগুলোতে তেলেরে সংকটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাঁদের, এর ওপর হঠাৎ তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।

বেড়া উপজেলার বিভিন্ন ওষুধ ও পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক বিক্রয় প্রতিনিধি এমন সমস্যায় পড়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। তাঁদের প্রতিদিন মোটরসাইকেলে করে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে কাজ করতে হয়। এতে দৈনিক দুই থেকে তিন লিটার পেট্রল লাগে।

বিক্রয় প্রতিনিধিরা জানান, এখন পাম্পে তেল পেতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে প্রতিদিনের কর্মঘণ্টা থেকে তিন-চার ঘণ্টা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে সব এলাকায় কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি আবদুল হালিম বলেন, ‘আমরা যে বেতন পাই, তাতে এমনিতেই সংসার চলে না। এখন পেট্রলের দাম বাড়ায় মাসে আরও দুই থেকে তিন হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে। এই টাকা কোথা থেকে আসবে, সেটা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি।’

বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভস অ্যাসোসিয়েশনের (ফারিয়া) বেড়া উপজেলা শাখার সভাপতি জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘চাকরির প্রয়োজনে প্রতিদিনই আমাদের মাঠে থাকতে হয়। কিন্তু বেতন তুলনামূলক কম। এর ওপর তেলের দাম বাড়ায় এখন জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে পড়বে। এ ছাড়া তেলের জন্য পেট্রলপাম্পে তিন-চার ঘণ্টা সময় নষ্ট হওয়ায় আমাদের আয় আরও কমে গেছে। তাই পাম্প থেকে আমাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল প্রদানের ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই।’

বেড়া বাজারে কথা হয় দেশের শীর্ষস্থানীয় গৃহস্থালি ও প্লাস্টিকজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের এক বিক্রয় প্রতিনিধির সঙ্গে। তিনি জানান, তেলের সংকটে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া এবং এর মধ্যেই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি—এই দুই চাপ একসঙ্গে এসে তাঁদের জীবনে বাড়তি সংকট তৈরি করেছে। ফলে পুরো পরিস্থিতিই তাঁদের কাছে এখন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।