জাল ওকালতনামার বিক্রির অভিযোগে দুই কর্মচারী বহিষ্কার। এ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে দিনাজপুর আইনজীবী সমিতির জরুরিসভার বৈঠক
জাল ওকালতনামার বিক্রির অভিযোগে দুই কর্মচারী বহিষ্কার। এ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে দিনাজপুর আইনজীবী সমিতির জরুরিসভার বৈঠক

দিনাজপুর আইনজীবী সমিতি

সিল-স্বাক্ষর জাল করে ওকালতনামা বিক্রি করতেন তাঁরা, চাকরিচ্যুত

সিল-স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া ওকালতনামা তৈরি ও বিক্রি করে দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন দিনাজপুর আইনজীবী সমিতির দুই কর্মচারী। অবশেষে ধরা পড়লেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সমিতির জরুরি সভায় বৈঠকে নিজের অপরাধ শিকার করলে তাঁদের একজনকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। অপরজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

চাকরিচ্যুত ওই কর্মচারী হলেন মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি আইনজীবী সমিতিতে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত ছিলেন। আর সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মনোয়ার হোসেন। তিনি সমিতির প্রধান করণিক পদে কর্মরত ছিলেন।

জেলা আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে আইনজীবী সুমন সরকার সমিতির কার্যালয় থেকে তৌহিদ হোসেনের কাছে ৫০০ টাকা মূল্যের একটি ওকালতনামা কেনেন, যেখানে সমিতির পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমানের স্বাক্ষর ছিল। সুমন সরকার ও মিজানুর রহমান পাশাপাশি ডেস্কে কাজ করেন। এ সময় মিজানুর রহমানের স্বাক্ষর দেখে সন্দেহ হলে তিনি মিজানুরের সামনে উপস্থাপন করেন। মিজানুর জানান, ওই ওকালতনামার স্বাক্ষরটি তাঁর নয় এবং জাল ওকালতনামার বিষয়ে তৎক্ষণাৎ সমিতির সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। সমিতির সভাপতি এ বিষয়ে তৌহিদ হোসেনকে তলব করলে তিনি অপরাধ স্বীকার করেন। এভাবে আরও কয়েকজন আইনজীবী জাল ওকালতনামার প্রমাণ হাজির করেন সমিতির কাছে। গতকাল বিকেলে সমিতির জরুরি সভায় সব কটি অভিযোগ উত্থাপিত হয় এবং জাল ওকালতনামার বিষয়টি উঠে আসে।

দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ১৫ সদস্যের কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়। সমিতির অধীন বর্তমানে কর্মরত ৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। ৫০০ টাকা মূল্যের ওকালতনামা, ৩৫০ টাকা মূল্যের বেলবন্ড, ১৫ টাকা মূল্যের আসামি হাজিরা এবং ২০ টাকা মূল্যের ফিরিস্তি বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থই সমিতির আয়ের উৎস।

কয়েকজন আইনজীবী বলেন, প্রতিদিন সমিতির গড়ে আয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। সেই টাকা সমিতি পরিচালনাসহ সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় হয়। কিন্তু গত কয়েক মাসে সমিতির আয় হচ্ছিল গড়ে ৬০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। আদালতে জাল ওকালতনামার যে ছড়াছড়ি, এটাই তার বড় প্রমাণ। তাঁরা ধারণা করছেন, সমিতির অফিসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের যোগসাজশে একটি চক্র গড়ে উঠেছে, যারা এই অনৈতিক কাজ করে আইনজীবীদের টাকা তছরুপ করছে। অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে পুরো চক্রকে ধরে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান সমিতির সদস্যরা।

এ বিষয়ে দিনাজপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল হালিম প্রথম আলোকে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে জাল ওকালতনামার বিষয়ে অভিযোগ আসছিল। অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে জরুরি সভার বৈঠকে দুজনকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে অধিকতর তদন্ত করা হবে। যদি সমিতির পদে থাকা কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাঁদের ক্ষেত্রেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।