বান্দরবান জেলা শহরতলির মেঘলা পর্যটনের দাঁতভাঙ্গাপাড়া এলাকায় পাহাড়ের খাদ থেকে দো ওয়াই মারমা (২৬) নামের এক নারী ও তাঁর ৪ বছরের মেয়ে বৃষ্টি তঞ্চঙ্গ্যার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। প্রায় ২০০ ফুট উঁচু খাড়া পাথরের আলিংথন পাহাড় থেকে পড়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন, নাকি হত্যার শিকার হয়েছেন, নিশ্চিত করে বলতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকালে মা–মেয়ের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে জানায়। এরপর পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে দো ওয়াই মারমার স্বামী উদয় তঞ্চঙ্গ্যা পলাতক।
নিহত দো ওয়াই মারমার বাবার বাড়ি চেমিডলুপাড়ায় বলে স্থায়ী লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। বিয়ের পর দো ওয়াই স্বামীর বাড়ি ডলুছড়িপাড়ায় থাকতেন। স্বামী উদয় তঞ্চঙ্গ্যার সঙ্গে তাঁর ঝগড়া হয়েছিল এক দিন আগে। সে সময় জনসমক্ষে স্বামী তাকে মারধর করেছিলেন।
উদয় তঞ্চঙ্গ্যার খালা বর্ষা তঞ্চঙ্গ্যা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, গতকাল বুধবার উদয় তঞ্চঙ্গ্যা শ্বাশুড়বাড়ি গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে স্ত্রী ও সন্তানকে বাড়িতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে আলিংথন পাহাড়ে গিয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে দেখতে পান তিনি। সে সময় স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে স্ত্রীকে মারধর করেছিলেন উদয়। এই সময় স্ত্রীকে মারধর করতে দেখে স্থানীয় কয়েকজন উদয় তঞ্চঙ্গ্যাকে থানায় নিয়ে যান। রাতে থানা থেকে ফেরার পর স্ত্রী দো ওয়াই মারমা ও মেয়ে বৃষ্টি তঞ্চঙ্গ্যাকে আবারও বাড়িতে পাননি তিনি। সকালে আলিংথন পাহাড়ের খাদে দুজনের লাশ খুঁজে পাওয়া যায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মান্না দে জানিয়েছেন, মা ও মেয়ে মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের বিষয়টি জানা গেছে। কিন্তু বিস্তারিত তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা বলা সম্ভব নয়।