সুনামগঞ্জে কৃষকদের ধানের জাতবৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা দিতে এক জমিতে ৫১ জাতের ধানের আবাদ করা হয়েছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাংহাই হাওরে
সুনামগঞ্জে কৃষকদের ধানের জাতবৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা দিতে এক জমিতে ৫১ জাতের ধানের আবাদ করা হয়েছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাংহাই হাওরে

সুনামগঞ্জের হাওরে ‘ধান জাদুঘরে’ একই জমিতে ৫১ জাতের ধানের আবাদ

সুনামগঞ্জের হাওরে এখন কৃষকেরা কিছু নির্দিষ্ট হাইব্রিড জাতের ধান বেশি আবাদ করছেন। তবে হাওরে বোরো মৌসুমের উপযোগী ধানের অনেক বৈচিত্র্যময় জাত রয়েছে, যা ভালো ফলন দেয় এবং বীজ সংরক্ষণ করাও সম্ভব। এই তথ্য কৃষকদের জানাতে এবং এসব জাত আবাদে উৎসাহিত করতে ‘ধান জাদুঘরের’ প্রদর্শনী করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)।

এই প্রদর্শনীতে এক জমিতে ৫১টি ধানের জাতের আবাদ করা হয়েছে। ব্রির সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের আশা, কৃষকেরা এই প্রদর্শনী থেকে ধানের বৈচিত্র্যময় জাত সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং হাওরের উপযোগী ধান চাষ করে লাভবান হবেন।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার উজানীগাঁও গ্রামের পাশে সাংহাই হাওরে এই প্রদর্শনীতে ধানের আবাদ হয়েছে, যাকে ব্রি নাম দিয়েছে ‘রাইস মিউজিয়াম’। এই উদ্যোগ জানার পর এলাকার কৃষকেরা প্রদর্শনী দেখতে এসেছেন এবং তাঁদের মধ্যে একধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

কৃষকেরা বলছেন, সুনামগঞ্জের হাওরে আগের পুরোনো ধানের আবাদ হয় না বললেই চলে। হাইব্রিড ধানের আবাদে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। হাওরের চিরচেনা গচি, রাতা ও টেপি ধানের জাত এখন নেই। তার বদলে ব্রি–২৮, ব্রি–২৯সহ কিছু জাত বেশি আবাদ হচ্ছে। এসব ধানের বীজ প্রতিবছর কিনতে হয়। কিন্তু পুরোনো জাতের ধানের চারা লম্বা হওয়ায় হাওরে পাহাড়ি ঢলে সহজে তলিয়ে যেত না।

ব্রির সুনামগঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন প্রকল্পের আওতায় (এলএসটিডি) সাংহাই হাওরের প্রদর্শনীর জন্য আট শতক জমি নেওয়া হয়েছে। এই জমিতে ৫১ জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে। প্রতিটি জাতের ধানের পাশে খুঁটি পুঁতে ছোট করে নাম লেখা হয়েছে। বোঝার জন্য স্টিকারে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেওয়া হয়েছে। এখানে বোরো মৌসুমে হাওরের উপযোগী ব্রি ধান–১০৪, ব্রি ধান–১০২, ব্রি ধান–১০৮, ব্রি–৮৮, ব্রি–১০০সহ উচ্চফলনশীল ধান রোপণ রয়েছে। কৃষকদের মধ্যে বৈশাখ মাসে প্রদর্শনী করা হবে এবং এ বিষয়ে সবার মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা হবে।

স্থানীয় কৃষক ইন্তাজ আলী (৬০) বলেন, ‘সুনামগঞ্জ মূলত এক ফসলি এলাকা। হাওরে মূলত বোরো আবাদ হয়। তাঁরা একসময় চার থেকে পাঁচটি জাতের ধান আবাদ করতেন, যা এখন আর হয় না। এখন উচ্চফলনশীল জাত এসেছে, তবে এগুলো সম্পর্কে তাঁদের ধারণা কম। এখন দেখি আরও অনেক জাত আছে। বৈশাখ মাসে এসব ধানের ফলন দেখে চিন্তা করব আগামী বছর কোনটা লাগালে ভালো হবে।’

উজানীগাঁও গ্রামের কৃষক আবদুর রহমান বলেন, ‘বেশি ফলনের আশায় যাতে ক্ষতির মুখে না পড়তে হয়, সেটি দেখতে হবে। গত দুই বছরে হাওরে ব্রি–২৮ ও ২৯ ধানে ব্যাপক চিটা হওয়ায় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যদি সেসব জাতের চেয়ে ভালো জাত এখানে থাকে, তবে আমরা এগুলো আবাদ করব।’

ব্রির সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান মো. রেজওয়ান ভূঁইয়া বলেন, রাইস মিউজিয়ামে যে ধানের আবাদ করা হয়েছে, তা হাওরের জন্য উপযোগী। ব্রি উদ্ভাবিত ও প্রচলিত জাতের ধানের বিষয়ে কৃষকদের ধারণা দেওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ।