হাসপাতাল অস্ত্রোপচার কক্ষের চুলায় পিঠা বানাচ্ছেন একজন নার্স। সম্প্রতি ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে
হাসপাতাল অস্ত্রোপচার কক্ষের চুলায় পিঠা বানাচ্ছেন একজন নার্স। সম্প্রতি ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে

ভিডিও ভাইরাল

ফেনীতে হাসপাতালের ওটিতে চুলা, খাবার রান্না করছেন নার্স

হাসপাতালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড ধরা হয় অস্ত্রোপচার কক্ষকে (ওটি)। সংক্রমণ রোধে এ ওয়ার্ড জীবাণুমুক্ত রাখা অপরিহার্য। তবে সে ওয়ার্ডেই বসানো হয়েছে চুলা। এতে রান্না করছেন হাসপাতালের নার্সরা।

সম্প্রতি ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নার্সদের রান্নার এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ১ মিনিট ৭ সেকেন্ডের এ ভিডিওতে দেখা যায় অস্ত্রোপচার কক্ষে শীতের পিঠা ( স্থানীয়ভাবে খোলাজা পিঠা নামে পরিচিত) তৈরি করছেন দুই নার্স। এর পাশ দিয়েই অন্য নার্সরা অবাধে আসা-যাওয়া করছেন। ঠিক পাশের কক্ষে হয় প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার। ভিডিওতে অপারেশন কক্ষে রোগীর স্বজনদেরও অবাধ চলাফেরা দেখা গেছে। ভিডিওতে খোলাজা পিঠা তৈরির উপকরণ ছাড়াও থালা-বাসন ও হাঁড়ি-পাতিলও দেখা গেছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় লেবার ওয়ার্ড রয়েছে। ওই ওয়ার্ডের অস্ত্রোপচার কক্ষে প্রসূতি রোগীদের ডেলিভারিসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। এ ওয়ার্ডে মেডিকেল সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করার জন্য ও পানি গরম করার জন্য গ্যাসের চুলা রয়েছে। ওই চুলাতেই হাসপাতালের দায়িত্বরত নার্সরা নিয়মিত খাবার তৈরি করেন।

এদিকে হাসপাতালে রান্নার এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যর কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কমিটিতে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মো. জালাল হোসেনকে আহ্বায়ক, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শোয়েব ইমতিয়াজ নিলয়কে সদস্যসচিব ও সার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট মো. আদনান আহমেদকে সদস্য করা হয়েছে।

ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের সামনে রোগী ও স্বজনদের অবস্থান। আজ দুপুরে তোলা

জানতে চাইলে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শোয়েব ইমতিয়াজ নিলয় বলেন, ‘রান্না করার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ একই কথা বলেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আগে থেকে জানতাম না। জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়েছি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেনীর সিভিল সার্জন মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, ‘অপারেশন থিয়েটার (অস্ত্রোপচার কক্ষ) একটি জীবাণুমুক্ত স্থান। রান্নার সঙ্গে থাকা উপকরণ থেকে তো জীবাণু ছড়াতে পারে। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে বলে আমি আশা করছি।’