দুটি বড় কাতলা হাতে মাছ ব্যবসায়ীরা। আজ সোমবার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে
দুটি বড় কাতলা হাতে মাছ ব্যবসায়ীরা। আজ সোমবার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে

একটির ওজন ২৫ কেজি ও অপরটির ওজন ২২ কেজি

পদ্মার দুই কাতল বিক্রি হলো এক লাখ ১৮ হাজার টাকায়

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অদূরে পদ্মা নদীতে আজ সোমবার ভোরে এক জেলের জালে ধরা পড়ে দুটি বড় কাতলা মাছ। মাছ দুইটির একটির ওজন ২৫ কেজি ও অপরটি ওজন ২২ কেজি। পরে এই মাছ দুটি প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

এদিকে আজ ভোরে অপর এক জেলের জালে ধরা পড়ে একটি মহাবিপন্ন বাগাড় মাছ। বাগাড়টির ওজন ২৫ কেজি। এটি বিক্রি করা হয় ৪৭ হাজার ৫০০ টাকায়।

আজ ভোরের দিকে মাছগুলো ধরা পড়ার পর দৌলতদিয়া ঘাটের শিপন মণ্ডলের মৎস্য আড়তে আনা হয়। সেখানে নিলামে মাছ তিনটি কেনেন স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ।

মহাবিপন্ন বাগাড় মাছ হাতে মাছ ব্যবসায়ী। আজ সোমবার সকালে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী ও মৎস্যজীবীরা বলেন, আজ ভোররাতের দিকে স্থানীয় জেলে সেকেন সরদার তাঁর দল নিয়ে পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে যান। নদীতে জাল ফেলার কিছুক্ষণ পর তা তুলতেই দুটি কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ দেখতে পান তাঁরা। পরে মাছগুলো দৌলতদিয়া ঘাট মাছবাজারের শিপন মণ্ডলের আড়তে আনা হয়।

এদিকে জেলে অসেল সরদারের জালেও আজ ভোরে ধরা পড়ে একটি নিষিদ্ধ মহাবিপন্ন ওই বাগাড়। এটিও শিপন মণ্ডলের আড়তে আনা হয়।

উন্মুক্ত নিলামে ২৫ কেজি ওজনের কাতলাটি প্রতি কেজি ২ হাজার ৩০০ টাকা দরে ৫৭ হাজার ৫০০ টাকায় এবং ২২ কেজি ওজনের কাতলাটি একই দরে ৫০ হাজার ৬০০ টাকায় কেনেন মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ। দুটি কাতলা কিনতে তাঁর খরচ হয় প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার ১০০ টাকা।

এদিকে ২৫ কেজি ওজনের নিষিদ্ধ মহাবিপন্ন বাগাড়টিও নিলামে প্রতি কেজি ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে ৪০ হাজার টাকায় কেনেন শাহজাহান শেখ। সব মিলিয়ে মাছ তিনটি কিনতে তাঁর খরচ হয় ১ লাখ ৪৮ হাজার ১০০ টাকা। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে মাছ তিনটি মাছ সিলেটের এক ইতালিপ্রবাসীর কাছে বিক্রি করেন তিনি।

শাহজাহান শেখের ভাষ্য, দুটি কাতলা প্রতি কেজি ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকায় এবং বাগাড়টি প্রতি কেজি ১ হাজার ৭০০ টাকা দরে ৪২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। সব মিলিয়ে মাছ তিনটি বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায়।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) তালিকায় বাগাড় মহাবিপন্ন প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত। বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী, বাগাড় শিকার, ধরা ও বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে আইন উপেক্ষা করে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় প্রায়ই প্রকাশ্যে বাগাড় শিকার ও নিলামে বিক্রির ঘটনা ঘটছে।