ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামের মসজিদসংলগ্ন মাঠে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামের মসজিদসংলগ্ন মাঠে

আমি স্বতন্ত্র হই আর যা-ই হই, এই দুর্দশা মেনে নেব না: রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘আমি বাংলাদেশের সব বিভাগেই গেছি। সেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া দেখছি। তাহলে আমার সরাইল-আশুগঞ্জের এই অবস্থা কেন? কেন এই দুর্দশা? আমি স্বতন্ত্র হই আর যা-ই হই, এই দুর্দশা মেনে নেব না। আপনারা দৃশ্যমান একটা পরিবর্তন লক্ষ করবেন।’

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম পরমানন্দপুরে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন রুমিন ফারহানা।

রুমিন ফারহানা ‘হাঁস’ প্রতীক পাওয়ার পর আজ শুক্রবার সরাইল উপজেলার পরমানন্দপুর গ্রামে প্রথম নির্বাচনী প্রচারণায় নামেন। সেখানে জনসভায় তিনি বলেন, ‘আল্লাহ যদি আমাকে আপনাদের উসিলায় এমপি করেন, যে-ই সরকারে আসুক না কেন, আমি একজন স্বতন্ত্র এমপি হিসেবে সরকারকে বাধ্য করব এই এলাকার উন্নয়ন করার জন্য। স্কুল–কলেজ–মাদ্রাসা, মন্দির–মসজিদের উন্নয়নের জন্য কেবল সরকারি বরাদ্দ নয়, আমি আমার নিজস্ব উদ্যোগে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যেন এই অবহেলিত জনপদের উন্নয়ন হয়।’

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আজকে এই পাঁচ গাঁও (পরমানন্দপুর, বরইচারা, ফতেহপুর, হরিপুর ও ষাটবাড়িয়া) থেকে আমার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হচ্ছে। আমরা জানি, সরাইল-আশুগঞ্জ উপজেলা দুটো বাংলাদেশের মধ্যে সবচাইতে অবহেলিত উপজেলা। আমি বলেছি, এই দুই উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত এলাকা কোনটি। আমাকে বলা হলো—এই পাঁচ গাঁও। আমি আজকে দেড়–দুই ঘণ্টা গাড়িতে যাত্রা করছি, ২০ মিনিট নৌকায় যাত্রা করছি। তারপর ৪৫ মিনিট থেকে প্রায় এক ঘণ্টা অটোরিকশায় যাত্রা করছি, তা–ও আবার বালুর রাস্তা। সমাবেশে আইসা আমি বলি, মা-বইনেরা যেমন ভর্তা বানায়, আমি সে রকম ভর্তা হইয়া গেছি। তাইলে আমার মা-বোন-ভাইয়েরা, তারা কী করে চলাচল করে?’

এলাকার উন্নয়নের অঙ্গীকার করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি আজকে আমার প্রথম নির্বাচনী জনসভা থেকে ওয়াদা করছি, ভূইশ্বর থেকে পরমানন্দপুর সড়কে একটা ব্রিজ করে দেওয়া আমার নির্বাচনী ওয়াদা। শুধু ব্রিজ নয়, আমাদের পাকা রাস্তাও হইতে হবে। এই এলাকাটা যদি দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন এলাকা হয়, তাহলে মানুষ কীভাবে উন্নয়নের ছোঁয়া পাবে? মানুষ কী করে আধুনিক জীবনযাত্রার ছোঁয়া পাবে? আমি আমার প্রথম নির্বাচনী জনসভা থেকে আশ্বস্ত করছি, এখানে (পাঁচ গ্রামে) সেতু ও পাকা রাস্তার ব্যবস্থা করব।’

ভোটারদের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘হাঁস হইল সমৃদ্ধির প্রতীক, হাঁস হইল ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতীক, হাঁস হইল নতুন শান্তির প্রতীক। সুতরাং এইবারের ভোটটা হাঁস মার্কায় হবে। আপনারা একটিবার সুযোগ দিন। এইবারে ভোটটা আমার হাঁস মার্কায় চাই।’

নির্বাচনী জনসভায় সভাপতিত্ব করেন পাকশিমুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড শাখা বিএনপির সভাপতি সিরাজ খান। উপস্থিত ছিলেন সরাইল উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আইয়ুব হোসেন সরদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি হোসেন মিয়া, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক উসমান খাঁন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল বারেক প্রমুখ।